আমেরিকার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে ফের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতের আবহে বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ালো কোরীয় উপদ্বীপে। আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল বজায় রেখে ফের বেশ কয়েকটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী (JCS) জানিয়েছে, কিম জং উনের দেশ এদিন দুই দফায় এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পরীক্ষা করেছে। এই ঘটনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ওনসান এলাকা থেকে প্রথম দফায় স্বল্প-পাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা ২৪০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়, যা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। ২০২৬ সালে এটি উত্তর কোরিয়ার পঞ্চম ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ৭ এপ্রিল একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ সম্পন্ন হয়েছে। পিয়ংইয়ং বরাবরই এই মহড়াকে তাদের দেশে হামলার উস্কানি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর দক্ষিণ কোরিয়া দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছে। একইসঙ্গে জাপানও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সিউলের দাবি, উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক মহলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পিয়ংইয়ং যেভাবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে, তা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার সামরিক বাহিনী কড়া নজরদারি চালাচ্ছে যাতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।