ভোটের আগে তৃণমূলকে নির্বাচন কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি, হিংসা ও বুথ দখল রুখতে নজিরবিহীন বার্তা
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী আবহে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট ঘোষণা, এবারের ভোট হবে সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত এবং প্রলোভনহীন। বুথ দখল বা ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো যে কোনো প্রচেষ্টা দমনে কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি বার্তায় জানানো হয়েছে।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই কমিশনের এই কঠোর সুর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাধারণত সব রাজনৈতিক দলকেই সাধারণ নির্দেশিকা দেওয়া হলেও, এবার সরাসরি শাসক দলের নাম উল্লেখ করে কমিশনের এই হুঁশিয়ারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পেশিশক্তির ব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না।
অন্যদিকে, এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে দিল্লির নির্বাচন সদনে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল। ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ এবং সাকেত গোখলেদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রভাবে কাজ করছে। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পনামাফিক ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত রহস্যজনক। বর্তমানে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৪ লক্ষে।
তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, আসন্ন নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি কমিশনকে ব্যবহার করছে। তবে নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থানে অনড় থেকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে যাতে ভোটাররা কোনো রকম প্ররোচনা বা হুমকি ছাড়াই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।