ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরানের মানবশৃঙ্খল, প্রিয়াঙ্কার চোখে সাহসের জয়

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে পশ্চিমা বিশ্বের কড়া সমালোচনা করে ইরানের সাধারণ মানুষের অদম্য সাহসের প্রশংসা করলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামো ও সভ্যতা ধ্বংস করার যে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ঘৃণা, রাগ এবং সহিংসতা কখনো স্থায়ী জয় এনে দিতে পারে না; বরং মানুষের সাহসই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলোচনা সফল না হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই হুমকির মুখে ইরানের নারী-পুরুষরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং নিজেদের জাতীয় সম্পদ রক্ষায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর চারপাশে এক নজিরবিহীন মানবশৃঙ্খল গড়ে তোলেন। বিশেষ করে আহভাজের হোয়াইট ব্রিজ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই সাহসিকতাকে সমর্থন জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর তথাকথিত নৈতিকতার মুখোশ আজ বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
একই ইস্যুতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও সরব হয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকিকে আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে অগ্রহণযোগ্য ও ভুল বলে অভিহিত করেছেন। রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন যে, যুদ্ধ দুঃখজনক বাস্তবতা হলেও কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বা একটি সভ্যতার অবসানের কথা বলা সমর্থনযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত কেবল ইরান নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধের মেঘ সাময়িকভাবে সরিয়ে দিয়েছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতে, ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে এই যুদ্ধবিরতি প্রমাণ করে যে ন্যায়ের পক্ষ ত্যাগ না করলে যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।