বীরভূমের ভোট প্রচারে অভিনব নজির সৃষ্টি করলেন ডাক্তার প্রার্থী আব্দুল করিম

বীরভূমের নলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারে এবার এক অভিনব দৃশ্য ধরা পড়ল। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নানা উপায়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন, তখন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল করিম বেছে নিয়েছেন তার পেশাগত দক্ষতাকে। প্রচারের ফাঁকেই তিনি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন এবং ঘরে বসেই লিখে দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশন।
ভিন্ন ধারার নির্বাচনী প্রচার
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রার্থীরা সাধারণত জনসভা, পথসভা বা বাড়ি বাড়ি প্রচারের ওপর জোর দেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রচারে বেরিয়ে প্রার্থীদের দাড়ি কেটে দেওয়া, রান্না করা কিংবা টোটো চালানোর মতো ঘটনা নজরে এসেছে। তবে নলহাটির কংগ্রেস প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই আলাদা। রাজনীতির ময়দানে লড়াইয়ের পাশাপাশি তিনি মানুষের দরজায় পৌঁছে যাচ্ছেন একজন চিকিৎসক হিসেবে।
জনসাধারণের মধ্যে প্রভাব ও তাৎপর্য
আব্দুল করিমের এই উদ্যোগ স্থানীয় মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাধারণ ভোটাররা একে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। এই ধরনের আচরণের পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
- মানুষের মৌলিক চাহিদার পাশে দাঁড়ানো: চিকিৎসার মতো জরুরি পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন।
- পেশাদারিত্ব ও সমাজসেবার মেলবন্ধন: একজন চিকিৎসক হিসেবে তার পরিচিতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বদলে সেবামূলক কাজে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
- আস্থার জায়গা তৈরি: রোগীদের সমস্যা শুনে প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়ার মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছেন এই প্রার্থী।
প্রার্থীর এই কৌশল নলহাটির নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময় বলবে, তবে রাজনীতির আঙিনায় এমন ‘ডাক্তারি দাওয়াই’ যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এক ঝলকে
- প্রার্থী: আব্দুল করিম (কংগ্রেস)।
- কেন্দ্র: বীরভূমের নলহাটি বিধানসভা।
- বিশেষত্ব: প্রচারের সময় রোগীদের শারীরিক সমস্যার কথা শোনা ও প্রেসক্রিপশন দেওয়া।
- প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন।
- লক্ষ্য: জনসেবার মাধ্যমে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন।