হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, বিশ্ববাজারে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

লেবাননে ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইরানের অভিযোগ, লেবাননে হিজবোল্লা ঘাঁটিতে ইজরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ জারি থাকবে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র এব্রাহিম রেজাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, লেবাননের ওপর জায়নিস্ট বাহিনীর বর্বর হামলার মুখে ইরান চুপ করে থাকবে না। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি কেবল ইরান নয়, বরং লেবাননসহ সকল মিত্র শক্তির ওপর কার্যকর হতে হবে। এদিকে ইজরায়েল ও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ ছিল না।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, ইজরায়েলি হামলায় গত কয়েক দিনে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ বেইরুট ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই সামরিক অভিযান চালানোয় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে হিজবোল্লা ও ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ অউন আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার আবেদন জানালেও পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের লাফ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রশাসন অবিলম্বে এই নৌপথ খুলে দেওয়ার দাবি জানালেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত করছে।