নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিল বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর এক বিস্ফোরক দাবিতে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর এখনও প্রযুক্তিগতভাবে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবেই রয়েছেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় পদত্যাগ না করে অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচনে লড়লে তাঁর প্রার্থীপদ খারিজ হতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আইনি জটিলতার ইঙ্গিত ও শুভেন্দুর প্রশ্ন
হলদিয়ায় এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পবিত্র কর বর্তমানে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির নির্বাচিত সদস্য। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে তিনি আইনিভাবে বিজেপির সদস্যপদ বা পঞ্চায়েত পদ থেকে ইস্তফা দেননি। শুভেন্দু সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “কোন আইনে ভারতের একজন নাগরিক একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন?”
মনোনয়ন বাতিলের সম্ভাবনা ও বিজেপির কৌশল
শুভেন্দুর দাবি, স্ক্রুটিনির সময় তিনি যদি লিখিতভাবে আপত্তি জানাতেন, তবে পবিত্র করের মনোনয়ন নিশ্চিতভাবে বাতিল হয়ে যেত। তবে তিনি স্বেচ্ছায় সেই পথে হাঁটেননি বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আইনি লড়াইয়ের চেয়ে নির্বাচনী ময়দানে পরাজিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। এই বক্তব্যের মাধ্যমে শুভেন্দু একদিকে যেমন প্রার্থীর আইনি দুর্বলতা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপিত করেছেন।
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে। সেবার বিজেপির টিকিটে জিতে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হন পবিত্র কর। তবে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শাসকদলে যোগ দেন এবং ওই দিনই নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। এই দ্রুত দলবদল এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়টিকে ঘিরেই এখন বিতর্কের সূত্রপাত।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
নন্দীগ্রামের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে এই ধরনের অভিযোগ ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সত্যিই পদত্যাগ না করে তিনি প্রার্থী হয়ে থাকেন, তবে তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী হতে পারে। তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগ তৃণমূল শিবিরের ওপর মানসিক চাপ তৈরির একটি কৌশল হতে পারে।
এক ঝলকে
- শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর এখনও বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য।
- পদত্যাগ না করে অন্য দলের প্রার্থী হওয়ায় মনোনয়ন বাতিলের হুঁশিয়ারি।
- নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি নেতা।
- পবিত্র কর ২০২৩ সালে বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- ২০২৬ সালের মার্চে তৃণমূলে যোগ দিয়েই নন্দীগ্রামের টিকিট পান পবিত্র।