শবরীমালা মামলায় কেন্দ্রকে কড়া তোপ সুপ্রিম কোর্টের, ধর্মীয় প্রথা না কুসংস্কার ঠিক করবে আদালতই

শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিধি নিয়ে চলা মামলায় কেন্দ্রকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে গঠিত নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ধর্মীয় প্রথা প্রকৃতপক্ষে ‘কুসংস্কার’ কি না, তা নির্ধারণ করার পূর্ণ এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। কেরলের এই বিতর্কিত মন্দির মামলায় কেন্দ্রের তোলা আইনি যুক্তিতে সায় না দিয়ে শীর্ষ আদালত নিজের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
শুনানির শুরুতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, সংবিধানে ২৫(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও প্রথাকে কুসংস্কার ঘোষণা করে সংস্কারমূলক আইন আনার অধিকার একমাত্র আইনসভার। একজন বিচারক আইনের বিশেষজ্ঞ হতে পারেন, কিন্তু ধর্মের নন— এই যুক্তি দিয়ে তিনি দাবি করেন যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ আদালতের পক্ষে ধর্মীয় প্রথাকে কুসংস্কার হিসেবে চিহ্নিত করা সাজে না। তিনি নাগাল্যান্ডের উদাহরণ টেনে ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
তবে কেন্দ্রের এই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ জানান, আদালত অবশ্যই কোনও প্রথা কুসংস্কার কি না তা বিচার করতে পারে, পরবর্তীতে আইনসভা সেই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবে তা তাদের বিষয়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, যদি ‘ডাইনি বিদ্যা’র মতো বিষয় ধর্মীয় প্রথার অংশ হয়, তবে কি আদালত চুপ থাকবে? অন্যদিকে, বিচারপতি বি ভি নাগরত্না মনে করেন, কোনও প্রথা ধর্মের মৌলিক অংশ কি না, তা সংশ্লিষ্ট ধর্মের দর্শনের আলোকেই বিচার করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছিল তৎকালীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়। বর্তমান শুনানিতে শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে ধর্মীয় আচার ও সাংবিধানিক অধিকারের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।