মধ্যপ্রদেশে এক সপ্তাহে ১৭ বাঘের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, সাতপুরায় নতুন নিরাপত্তা বলয়

মধ্যপ্রদেশে বাঘের মৃত্যুমিছিল ঘিরে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই ১৭টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে, যা টাইগার রিজার্ভের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ২০২৫ সালে রাজ্যে মোট ৫৪টি বাঘের মৃত্যু নথিবদ্ধ হয়েছে, যা প্রজেক্ট টাইগার শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ইতিমধ্য়েই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে বাঘের মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা একাধিক ভয়াবহ কারণ। সাতপুরায় অবৈধ আফিম চাষ আড়াল করতে বাঘকে বিষপ্রয়োগ ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে মারার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, বনভূমির ভেতরে এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে বাঘেদের পারস্পরিক লড়াই এবং শাবকদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। মাধাই রেঞ্জে পর্যটকদের ক্যামেরায় ধরা পড়া দুই প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের হিংস্র লড়াই বন্যপ্রাণীদের ক্রমবর্ধমান চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় সাতপুরা টাইগার রিজার্ভে সম্পূর্ণ নতুন ‘টাইগার প্রোটেকশন ফোর্স’ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বর্তমানে রাজ্যে স্টেট টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স থাকলেও তারা মূলত অপরাধ ঘটার পর তদন্ত ও অভিযানে অংশ নেয়। প্রস্তাবিত এই নতুন ফোর্সটি হবে রিজার্ভ-নির্দিষ্ট এবং স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত। এদের মূল লক্ষ্য হবে অপরাধ ঘটার আগেই কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাঘের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
প্রতিরক্ষামূলক এই বাহিনীর জন্য ৩০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে প্রশাসনিক সমন্বয়, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন ও অস্ত্র চালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং জঙ্গলে অ্যামবুশ করার কৌশল শেখানো হবে। এডিজি পুলিশ ট্রেনিং রাজা বাবু সিংহ জানিয়েছেন, সাতপুরা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পাচমাড়িতে এই উন্নত প্রশিক্ষণ শুরু হতে চলেছে। সফল হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য ব্যাঘ্র প্রকল্পেও এই সুরক্ষা মডেল চালু হতে পারে।