যুদ্ধবিরতিতে ‘হিরো’ পাকিস্তান, ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

যুদ্ধবিরতিতে ‘হিরো’ পাকিস্তান, ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ উত্তজনা কাটিয়ে অবশেষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার এই সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পাকিস্তানের নাম। এই ঐতিহাসিক ঘোষণায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তবে এই পরিস্থিতি প্রতিবেশী দেশ ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ও সক্ষমতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য ও ট্রাম্পের প্রশংসা

ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়ায় সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করার সময় পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ‘কৃতজ্ঞতা’ জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসলামাবাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়ে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানান। আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান, যা ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

কেন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান সফল

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বিশেষ কৌশলী অবস্থানের কারণে পাকিস্তান এই আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে:

  • ইরানের বিশ্বাসযোগ্যতা: ইরান সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিনপন্থী দেশগুলোকে খুব একটা বিশ্বাস করে না। কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে পাকিস্তানের সাথে তেহরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
  • আমেরিকার সাথে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা: গত এক বছরে ওয়াশিংটনের সাথে ইসলামাবাদের সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। ট্রাম্পের তৈরি ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
  • চিনের নেপথ্য ভূমিকা: খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যার সরাসরি সুবিধা পেয়েছে পাকিস্তান।
  • আর্থিক ও বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতা: যুদ্ধ চলার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল। দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে এই যুদ্ধ থামানো ইসলামাবাদের জন্য অপরিহার্য ছিল।

নয়াদিল্লির অবস্থান ও দেশের অভ্যন্তরে বিতর্ক

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশ মন্ত্রক এই সংঘর্ষবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি বরাবরই কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে। তবে ভারতের এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, যে ভারত নিজেকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে দাবি করে, তারা কেন এই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারল না। শিবসেনা (উদ্ধব শিবির) নেতা সঞ্জয় রাউত নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, যেখানে পাকিস্তান বিশ্বকে শান্তিবার্তা দিচ্ছে, সেখানে ভারতের নেতৃত্ব এই বৈশ্বিক সংকটে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

একঝলকে

  • ঘোষণা: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়েছে।
  • প্রধান মধ্যস্থতাকারী: পাকিস্তান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
  • ইসলামাবাদ টকস: ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে পরবর্তী শান্তি চুক্তির বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
  • মার্কিন অবস্থান: ডোনাল্ড ট্রাম্প আসিম মুনিরকে ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
  • ভারতের প্রতিক্রিয়া: বিদেশ মন্ত্রক শান্তিকে স্বাগত জানালেও ঘরোয়া রাজনীতিতে সরকার বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *