কলকাতায় সিপিএমের মনোনয়ন মিছিলে উদ্দাম নাচের জোয়ার

কলকাতায় সিপিএমের মনোনয়ন মিছিলে উদ্দাম নাচের জোয়ার

কলকাতার রাজপথে মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। কোনো উৎসব বা বিয়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং বামফ্রন্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো অকাল উৎসবের মেজাজ। উত্তর কলকাতার সাতটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই মিছিলে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দাম নৃত্য পথচলতি মানুষকে অবাক করেছে। জয়ের আগেই মনোনয়ন পেশের মিছিলে এমন স্বতঃস্ফূর্ত উল্লাস রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মনোনয়ন মিছিলে উৎসবের মেজাজ

মঙ্গলবার সকালে মহম্মদ আলি পার্ক থেকে জেশপ বিল্ডিং পর্যন্ত এই দীর্ঘ মিছিলটি আয়োজিত হয়। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন উত্তর কলকাতার সাতটি কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। তবে সবার নজর কেড়েছে মিছিলের পেছনের অংশ, যেখানে ‘বাংলা বাঁচাও’ গানের তালে পা মেলালেন নবীন থেকে প্রবীণ কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। প্রচারের চিরাচরিত গম্ভীর মেজাজ ঝেড়ে ফেলে এই নাচ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ভোটারদের আকৃষ্ট করার একটি ভিন্ন কৌশল।

উত্তর কলকাতার সাত কেন্দ্রের প্রার্থীরা

এদিন উত্তর কলকাতার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • এন্টালি: আব্দুল রউফ (সিপিএম)
  • জোড়াসাঁকো: ভরতরাম তিওয়ারি (সিপিএম)
  • বেলেঘাটা: পারমিতা রায় (সিপিএম)
  • কাশীপুর-বেলগাছিয়া: রাজেন্দ্র গুপ্তা (সিপিএম)
  • মানিকতলা: মৌসুমি ঘোষ (সিপিআই)
  • শ্যামপুকুর: ঝুমা দাস (আরএসপি)
  • চৌরঙ্গি: সঞ্জয় বসু (আরসিপিআই)

মিছিলে কল্লোল মজুমদার ও প্রবীর দেবের মতো বর্ষীয়ান বাম নেতাদের উপস্থিতি কর্মীদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

শহর ও শহরতলিতে বামেদের শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিত

শুধু উত্তর কলকাতাই নয়, এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার ধুম ছিল উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও। দমদম, জলহাটি, কামারহাটি, নোয়াপাড়া এবং খড়দহ কেন্দ্রের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় বড় মিছিল করে মনোনয়ন পেশ করেন। অন্যদিকে, বারুইপুর এসডিও অফিসে জয়নগর, সোনারপুর এবং বারুইপুর পূর্ব-পশ্চিমের প্রার্থীরা শক্তি প্রদর্শন করেন। বারুইপুরের মিছিলে নেতৃত্ব দেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।

বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

মনোনয়ন মিছিলে এই নাচ এবং ব্যাপক জনসমাগম বাম শিবিরের আত্মবিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ভোটের ফল প্রকাশের আগেই এই উদযাপন কি কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথে এই তারুণ্য এবং উদ্দীপনা প্রদর্শন করে বামেরা প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা নির্বাচনী ময়দানে এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *