তিন দিন আগে স্ত্রীকে খুন করে পালালো ব্যাংককর্মী স্বামী

তিন দিন আগে স্ত্রীকে খুন করে পালালো ব্যাংককর্মী স্বামী

শিলিগুড়ির মাটিগাড়া সংলগ্ন শিবমন্দির এলাকায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পেশায় ব্যাংককর্মী অরিদ্র বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের স্ত্রী দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (৪০) শ্বাসরোধ করে খুন করার পর দেহ আগলে ঘরেই বসেছিলেন তিন দিন। শেষ পর্যন্ত মৃতদেহ সরাতে ব্যর্থ হয়ে নিজেই পুলিশকে ফোন করে অপরাধের কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও পুলিশের তৎপরতা

ঘটনাটি ঘটেছে হালেরমাথা এলাকার একটি আবাসনের চারতলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার দুপুরের দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার তিন দিন পর বুধবার সকালে অভিযুক্ত অরিদ্র পুলিশকে ফোন করে বলেন, “তিন দিন আগে স্ত্রীকে খুন করেছি স্যার। দেহটি বাড়িতেই পড়ে রয়েছে।”

ফোন পাওয়ার পরপরই শিলিগুড়ির ডিসিপি কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ এবং মাটিগাড়া থানার আইসি মনোজিৎ সরকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে কম্বলে জড়ানো এবং পচন ধরা অবস্থায় স্কুলশিক্ষিকা দেবলীনার দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর ১১ বছরের ছেলেকে নিয়ে মালদহে পালিয়ে গিয়েছিলেন অরিদ্র, তবে পুলিশি তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খুনের নেপথ্যে রহস্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি

মৃত দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। বাইরে থেকে দম্পতির মধ্যে বড় কোনো অশান্তি লক্ষ্য করা না গেলেও, কেন এই নৃশংস পথ বেছে নেওয়া হলো তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বাড়ির পরিচারিকা কল্পনা রায়ের বয়ান অনুযায়ী, মঙ্গলবারও তিনি ওই বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। অরিদ্রবাবু তাকে পাশের ঘরে যেতে এবং ওই ঘরের ফ্যান বন্ধ করতে বারণ করেছিলেন। মৃতদেহের দুর্গন্ধ ঢাকতেই সম্ভবত ঘরের ফ্যান চালিয়ে রাখা হয়েছিল। শিক্ষিকা স্কুলে আছেন ভেবে পরিচারিকাও সেদিন কোনো সন্দেহ করেননি।

সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রবিবার দুপুরের পর কোনো এক সময় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন অরিদ্র। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের প্রকৃত মোটিভ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *