খেজুরিতে বিজেপির অস্বস্তি ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার নিগৃহীতা কি এবার ব্রাত্য

খেজুরিতে বিজেপির অস্বস্তি ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার নিগৃহীতা কি এবার ব্রাত্য

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে ঠিকই তবে খেজুরির উত্তর মালদা গ্রামে এক ভিন্ন চিত্র ধরা পড়েছে। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার সেই প্রৌঢ়া এবার বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান উগরে দিয়েছেন। একদা যে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল আজ সেই নিগৃহীতার সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

নেপথ্যের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

২০২১ সালের ২ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর খেজুরির উত্তর মালদা গ্রামে ব্যাপক হিংসার অভিযোগ ওঠে। ৪ মে বিজেপির সক্রিয় কর্মী ওই মহিলার বাড়িতে ঢুকে নির্যাতনের পর তাকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘ ২২ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এলেও আজও সেই দুঃসহ স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। বর্তমানে বিরোধী দলনেতার উদ্যোগে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা অনুদান পেলেও তা দিয়ে সংসার চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দলীয় উদাসীনতা ও নিগৃহীতার অভিমান

নির্বাচনী আবহে যখন প্রার্থীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তখন ওই নিগৃহীতা একপ্রকার গৃহবন্দি। তাঁর প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

  • বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ: স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বা বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। একমাত্র শুভ্রাংশু দাস ছাড়া অন্য কোনো নেতার দেখা মেলেনি।
  • ভোটপ্রচারে অনীহা: প্রচারের ময়দানে নামার ইচ্ছা থাকলেও দলের তরফে কোনো ডাক না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
  • হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতা: অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তাঁকে পুনরায় হুমকি দেওয়া শুরু করেছে বলে অভিযোগ।
  • আর্থিক অনটন: আবাস যোজনার কিস্তির টাকা দিয়ে নির্মাণসামগ্রী কিনলেও টাকার অভাবে বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেননি।

আইনি লড়াই ও সিবিআই তদন্তের মোড়

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তভার নিয়েছিল সিবিআই। তবে চার্জশিট থেকে তিন অভিযুক্তের নাম বাদ পড়ায় নিগৃহীতা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে আদালতের হস্তক্ষেপে পুনরায় চারজনের নাম মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা ও দায়রা আদালতে মামলা চললেও সাক্ষীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে তাঁর দাবি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল নেতা সমুদ্ভব দাসের দাবি হুমকি বা আবাস যোজনার সমস্যার বিষয়টি তাঁর জানা নেই এবং তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী সুব্রত পাইক দাবি করেছেন দল প্রথম থেকেই তাঁর পাশে ছিল এবং আগামী দিনেও থাকবে। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে নিগৃহীতার অভিযোগ স্থানীয় স্তরে বিজেপির সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাবকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *