ভোটাধিকার রক্ষায় ইটাহারে মানুষের ঢল নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে দিশেহারা হাজারো পরিবার

ভোটাধিকার রক্ষায় ইটাহারে মানুষের ঢল নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে দিশেহারা হাজারো পরিবার

উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার ইটাহার বিডিও অফিস চত্বরে কয়েক হাজার মানুষের জমায়েত প্রশাসনের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকায় জেলায় প্রায় ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৪৬ জনের নাম বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র ইটাহার ব্লকেই সংখ্যাটি প্রায় ১৮ হাজার।

নথিপত্র জমা দিতে মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা

ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাইবুনালের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই নথি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বিডিও অফিসে খোলা সহায়তা শিবিরে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে এই প্রক্রিয়া চললেও সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। কেউ কোলের শিশুকে নিয়ে, আবার কেউ লাঠিতে ভর দিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

জীবিকা ছেড়ে লড়াই এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্ক

এই সংকটের ফলে স্থানীয় দিনমজুর ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার কাজ ফেলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য দিনের পর দিন বিডিও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের মধ্যে প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প। ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ গেলে নাগরিকত্ব হারানো বা দেশান্তরী হওয়ার ভয় গ্রাস করেছে সাধারণ মানুষকে।

  • শ্রমিকদের ভোগান্তি: কেরল বা কলকাতায় কর্মরত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের হয়ে নথি জমা দিতে আসছেন। কাজের জায়গা থেকে বারবার ফিরে আসা সম্ভব না হওয়ায় দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে।
  • নারীদের সংগ্রাম: সাত মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেক মা-কে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতেই এই কৃচ্ছ্রসাধন।
  • বয়স্কদের আর্তি: লাঠিতে ভর দিয়ে বিডিও অফিসে আসা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মনে একটাই প্রশ্ন, এই বয়সে এসেও কি তাঁদের নতুন করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে?

প্রশাসনিক তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিডিও অফিসে সহায়তা শিবির খোলার মাধ্যমে দ্রুত ট্রাইবুনালের আবেদন নিষ্পত্তির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট নথিপত্র জমা দিলে তা যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়ায় নাম তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী এবং সময়ের সীমাবদ্ধতা সাধারণ মানুষের মনে চক্রান্তের আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *