বর্ধমানে তৃণমূলের বর্ণাঢ্য মনোনয়ন ঘিরে রাজকীয় মিছিল ও জনস্রোত

পূর্ব বর্ধমান জেলায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন শক্তি প্রদর্শন করল তৃণমূল কংগ্রেস। ব্যান্ড, ঢাক আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত বর্ধমান শহর থেকে কাটোয়া পর্যন্ত এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কার্জন গেটের সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিশাল জমায়েত ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নির্বাচনের আগে শাসক দলের আত্মবিশ্বাসকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন ও ঐক্যবদ্ধ চিত্র
এদিন বর্ধমান দক্ষিণের প্রার্থী খোকন দাস বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে মনোনয়নপত্র জমা দেন। টাউন হলের সামনে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মনোনয়ন জমা দেওয়ার এই প্রক্রিয়া আসলে দলের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের একটি প্রতিফলন। দলের সব স্তরের নেতারা প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা এককাট্টা হয়েই নির্বাচনী ময়দানে নামছেন।
প্রার্থীদের দাবি ও উন্নয়নের হাতিয়ার
প্রার্থীরা মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং উন্নয়নের খতিয়ানকেই তাঁদের জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন।
- মেমারির প্রার্থী রাসবিহারী হালদার মানুষের আবেগ দেখে লক্ষাধিক ভোটে জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন।
- আউশগ্রামের প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারা সরকারি প্রকল্প ও উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে মানুষের আশীর্বাদ পাওয়ার কথা জানান।
- বর্ধমান উত্তরের নিশীথকুমার মালিক, ভাতারের শান্তনু কোঁয়ার এবং জামালপুরের ভূতনাথ মালিকও এদিন মনোনয়ন দাখিল করেন।
- খণ্ডঘোষ থেকে নবীন বাগ এবং রায়না থেকে মন্দিরা দলুই সমর্থকদের সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
কাটোয়া ও শিল্পাঞ্চলেও জয়ের লক্ষ্য
কাটোয়া মহকুমাতেও তৃণমূলের মনোনয়ন ঘিরে ছিল ব্যাপক উত্তেজনা। ছয় বারের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে ফের লড়াইয়ে নেমেছেন। তাঁর সাথে মঙ্গলকোটের অপূর্ব চৌধুরী এবং কেতুগ্রামের শেখ শাহনওয়াজও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শোভাযাত্রায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য, যেখানে শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে প্রার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয়।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
সিপিএম এবং বিজেপি প্রার্থীরা আগেই তাঁদের মনোনয়ন জমা দিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূলের এই বিশাল জমায়েতকে কেন্দ্র করে এদিন জেলা জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচি আসলে বিরোধীদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখার একটি কৌশল। কর্মীদের উচ্ছ্বাস এবং নেতাদের সঙ্ঘবদ্ধ উপস্থিতি জেলা রাজনীতিতে তৃণমূলের শক্ত ভিতকেই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।