মুর্শিদাবাদের আমবাগানে শুলি পোকার হানা মাথায় হাত চাষিদের

নবাবী আমল থেকেই আম উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার। চলতি মৌসুমে মুকুলে ভরা বাগান দেখে চাষিরা বাম্পার ফলনের আশা করলেও, এপ্রিলের শুরু থেকে হানা দিয়েছে মারণ ‘শুলি পোকা’। এই পোকার আক্রমণে আমের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে লালবাগ ও জিয়াগঞ্জ মহকুমার আম চাষিদের।
কেন চিন্তিত চাষিরা
চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমের মুকুলে শোষক পোকার উপদ্রব কম ছিল। চাষিরা ভেবেছিলেন এবার আমের ফলন রেকর্ড ভাঙবে। কিন্তু মার্চ মাস নির্বিঘ্নে কাটলেও এপ্রিলের শুরু থেকে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। পোকার আক্রমণে আমের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক আম অকালেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নিশাচর শুলি পোকার ধ্বংসলীলা
শুলি পোকা মূলত একটি নিশাচর পতঙ্গ। দিনের আলোয় এরা ঝোপঝাড় বা ঘন পাতায় লুকিয়ে থাকে, যার ফলে চাষিদের পক্ষে এদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা নামলেই এরা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ডিম পাড়ার জন্য কচি আম বেছে নেয়।
- লার্ভার আক্রমণ: ডিম ফুটে বের হওয়া লার্ভা সরাসরি আমের ভেতরে ঢুকে যায় এবং আঁটি খেতে শুরু করে।
- ভেতর থেকে ধ্বংস: বাইরে থেকে আম দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে ভেতরে পোকা রয়েছে, ফলে বাগান মালিকরা আক্রান্ত আম দ্রুত শনাক্ত করতে পারছেন না।
- থোকার ক্ষতি: একটি আমে লার্ভা বাসা বাঁধলে ধীরে ধীরে পুরো থোকার সব আমই নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
মুর্শিদাবাদ জেলা উদ্যানপালন দপ্তর এই সংকট মোকাবিলায় চাষিদের বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহীর মতে, সংক্রমণ রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
১. আক্রান্ত ফল অপসারণ: যদি কোনো আমে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়, তবে দ্রুত সেটি থোকা থেকে ছিঁড়ে দূরে কোথাও নষ্ট করে ফেলতে হবে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
২. কীটনাশকের ব্যবহার: পোকা দমনের জন্য ডাইক্লোরোফক্স বা ফেনথিয়ন নির্দিষ্ট মাত্রায় জলের সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত বাগানগুলোতে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই পোকার আক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে জেলার আম অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।