যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলা, লেবাননে ১০ মিনিটে নিহত ২৫৪

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইজরায়েল। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই মধ্য বৈরুতের জনবহুল বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে এই হামলা চালানো হয়। লেবাননের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইজরায়েলি বিমান বাহিনীর এই নৃশংস হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ। বুধবারের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন এই পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে সারা দেশে শতাধিক এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে ইজরায়েল। আকাশপথে চালানো এই সমন্বিত হামলায় বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সগুলো নিরন্তর হতাহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছে। বিপর্যয় সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানিয়েছে লেবানন প্রশাসন।
অন্যদিকে, ইজরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, গত ২ মার্চ নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এটিই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী আক্রমণ। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইজরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে লেবাননের শতাধিক কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
এই ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হামলার পরপরই ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইজরায়েলের এই আচমকা হামলায় গোটা অঞ্চলে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন লাশের সারি বাড়ছে, অন্যদিকে ইরান ও ইজরায়েলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।