উত্তর দিনাজপুরের ৯ আসনে ১৩০ প্রার্থীর মনোনয়ন উত্তরবঙ্গ জুড়ে ভোটের পারদ তুঙ্গে

উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। জেলার ৯টি বিধানসভা আসনে এবার মোট ১৩০ জন প্রার্থী তাঁদের ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন। মূলত তৃণমূল, বিজেপি, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের মধ্যে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকলেও, ছোট রাজনৈতিক দল এবং নির্দল প্রার্থীদের সংখ্যা এবার নজরকাড়া।
করণদিঘিতে প্রার্থীদের ভিড় এবং নামের লড়াই
এবারের নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানে সর্বোচ্চ ২৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মূল চারটি দলের বাইরেও এসইউসিআই, ভূমিপুত্র ইউনাইটেড পার্টি এবং মিমের মতো সংগঠনগুলো এখানে সক্রিয়। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আসনে তিন জন নির্দল প্রার্থীর নাম ও পদবির সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হুবহু মিল পাওয়া গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই অনেক সময় এমন কৌশল নেওয়া হয়।
প্রশাসনিক স্ক্রুটিনি ও বাতিল মনোনয়ন
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্ক্রুটিনি বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো হয়। এই পর্বে বেশ কিছু প্রার্থীর আবেদন বাতিল হয়েছে।
- করণদিঘি আসনে সর্বোচ্চ ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
- ইসলামপুর, গোয়ালপোখর এবং হেমতাবাদ আসনে ১টি করে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
- কালিয়াগঞ্জ আসনে বাতিল হয়েছে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন।
জয়ের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী যুযুধান শিবির
ভোটের ময়দানে প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণের লড়াইয়ে সব দলই অনড়। বিজেপি জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজের দাবি, তাঁদের সংগঠন এবার অত্যন্ত সক্রিয় এবং তাঁরা বড় জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলোতে রাজ্য সরকারের করা উন্নয়নের নিরিখে সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রার্থীদেরই জয়যুক্ত করবেন। বাম-কংগ্রেস জোটও পিছিয়ে নেই, তাঁরাও আসন পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট আশাবাদী।
আসনভিত্তিক প্রার্থী সংখ্যার একনজর
জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চোপড়ায় ৯ জন, ইসলামপুরে ১৩ জন, গোয়ালপোখরে ১২ জন এবং চাকুলিয়ায় ১৪ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। এছাড়া হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ ও ইটাহারে ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। জেলা সদর রায়গঞ্জে প্রার্থীর সংখ্যা ১৪ জন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের এই ভিড় প্রমাণ করে যে ছোট দল ও নির্দল প্রার্থীরাও এবার নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। এখন দেখার, এই বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর ভিড়ে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি কে হাসেন।