বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা থাকলেও থামবে না ভারতের অর্থনীতির গতি, সাফ জানাল বিশ্বব্যাংক

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও ভারতীয় অর্থনীতির জন্য সুখবর দিল বিশ্বব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ রিপোর্টে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির খবরের মাঝেই এই ইতিবাচক রিপোর্ট বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি জাগিয়েছে।
ভারতের অর্থনীতির নতুন লক্ষ্যমাত্রা
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার পূর্বের ৬.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে বর্তমানে ৬.৬ শতাংশ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে:
- শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা: বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারতের বাজারে মানুষের কেনাকাটার চাহিদা অনেক বেশি।
- রপ্তানি খাতের উন্নতি: আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি আগের তুলনায় বেশ শক্তিশালী হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাপক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা
রিপোর্ট বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা গত বছরের ৭.১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, জিএসটি (GST) কমানোর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে কনজিউমার ডিমান্ড বা ভোক্তা চাহিদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক (RBI) তাদের ২০২৬ সালের এপ্রিলে ঘোষিত পলিসিতেও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৬ শতাংশ করেছে।
ঝুঁকির মুখে বিশ্ববাজার ও তেলের দাম
অর্থনীতির গতি বাড়লেও কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি সাধারণ জিনিসের দাম বাড়ে, তবে মানুষের খরচ করার ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এই ঝুঁকির মধ্যেও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ভারতের অবস্থান অনেক বেশি স্থিতিশীল।
২০৪৭ সালের লক্ষ্য ও ভবিষ্যতের রূপরেখা
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উচ্চ আয়ের উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এই রিপোর্টে। ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব প্রয়োজন:
- অবকাঠামো বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার।
- বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা বা ট্রেড ব্যারিয়ার হ্রাস করা।
- ডিজিটাল সার্ভিস, নগর উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতকে প্রবৃদ্ধির মূল হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা।
রিপোর্টটির সারমর্ম হলো, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও ভারতের অর্থনীতির জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
একঝলকে
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জিডিপি পূর্বাভাস বেড়ে ৬.৬ শতাংশ হয়েছে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা।
- জিএসটি কমানোর ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির আশা।
- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি।
- উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল ও পর্যটন খাতে জোর দেওয়ার পরামর্শ।