বঙ্গ বিধানসভায় শূন্যের গেরো কাটাতে মরিয়া কংগ্রেস, অধীর-শুভঙ্করদের হাত ধরেই কি ফিরবে হারানো জমি

রাজ্য বিধানসভায় নিজেদের অস্তিত্ব পুনরুদ্ধারে এবার কোমর বেঁধে নামছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। লোকসভা নির্বাচনের পর বঙ্গে দলের ‘শূন্য’ আসন সংখ্যার অভিশাপ কাটাতে অল-আউট ঝাঁপানোর কৌশল নিয়েছে এআইসিসি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের লক্ষ্য স্পষ্ট—আগামী নির্বাচনে অন্তত ১০টি আসন পকেটস্থ করা। সেই উদ্দেশ্যেই অধীর চৌধুরী, মৌসম নুর, নেপাল মাহাতো এবং আলি ইমরান রামজের (ভিক্টর) মতো অভিজ্ঞ ও হেভিওয়েট মুখদের বিধানসভা লড়াইয়ের ময়দানে নামানোর নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নিজে এই অভিযানের সামনের সারিতে থাকছেন বলে জানা গিয়েছে।
কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর ও বীরভূমের মতো জেলাগুলিকে পাখির চোখ করা হয়েছে। দলের একাংশের দাবি, এই জেলাগুলিতে সঠিক প্রার্থী ও প্রচার কৌশল অবলম্বন করলে ৩ থেকে ৪টি আসনে জয় নিশ্চিত। এমনকি ১০-১২টি আসনেও কড়া টক্কর দেওয়ার সম্ভাবনা দেখছে হাইকমান্ড। মূল লক্ষ্য হলো বিধানসভার অলিন্দে বিরোধী রাজনীতির যে ‘গৈরিকীকরণ’ ঘটেছে, তা রুখে দিয়ে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনা। অধীর চৌধুরীর মতো লড়াকু নেতৃত্ব বিধানসভায় থাকলে বর্তমান বিরোধী দলনেতার একাধিপত্যেও রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে এই কৌশলী লড়াই নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কিছু নেতার মতে, কংগ্রেসের ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এই ভোট যদি তৃণমূলের থেকে সরে এসে কংগ্রেসের ঝুড়িতে পড়ে, তবে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে বিজেপি। ভোট কাটাকাটির সমীকরণে গেরুয়া শিবির বিরোধী দল হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর আগে বঙ্গে কংগ্রেসের এই ‘একলা চলো’ নীতি এবং পুরনো অভিজ্ঞ মুখদের নির্বাচনী রণক্ষেত্রে নামানোর সিদ্ধান্ত বঙ্গে রাজনীতির স্বাদ বদলাতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার।