মনোনয়নপত্রে তথ্য গোপন, সাগরদিঘির বামজোট প্রার্থী মশিউরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে তৃণমূল

সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের বাম-আইএসএফ সমর্থিত এসডিপিআই (SDPI) প্রার্থী মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ অনুযায়ী, মশিউর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার সম্পূর্ণ তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পেশ করেননি। হলফনামায় তিনি চারটি মামলার কথা উল্লেখ করলেও, আদতে সাগরদিঘি থানায় তাঁর নামে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি দায়ের হওয়া একটি মামলার তথ্য তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন বলে দাবি শাসক শিবিরের।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মশিউর রহমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর অপরাধমূলক রেকর্ড আড়াল করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিএনএস এবং মোটর ভেহিকল আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করলে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। ইতিপূর্বেই ত্রুটির কারণে সামশেরগঞ্জের বামজোট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে কমিশন। ফলে মশিউরের ক্ষেত্রেও একই জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
সাগরদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মশিউর সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে এসডিপিআই-তে যোগ দেন। তাঁকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়; এর আগে সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং জাত তুলে গালিগালাজ করার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি-উপজাতি সংরক্ষণ আইন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ একাধিক ধারায় মামলা চলছে। তবে তথ্য গোপনের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মশিউর রহমান দাবি করেছেন যে, বিষয়টি মিটে গিয়েছে এবং এতে কোনও সমস্যা হবে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাগরদিঘিতে তৃণমূল বনাম মহাজোটের লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই আইনি জটিলতা বিরোধীদের অস্বস্তি বাড়াল। শাসক দল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনছে। শেষ পর্যন্ত কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। ⏹