ভোটের মুখে দীর্ঘ ১৩ বছরের কারাবাস শেষ, শর্তসাপেক্ষে জেলমুক্ত হচ্ছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন

ভোটের মুখে দীর্ঘ ১৩ বছরের কারাবাস শেষ, শর্তসাপেক্ষে জেলমুক্ত হচ্ছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন

সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। টানা ১২ বছর ১১ মাস কারাবাসের পর জেল থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করায় জেল থেকে বেরোনোর পথে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকা বারাসাত থানার শেষ দু’টি মামলাতেও জামিন মেলায় বৃহস্পতিবারই তাঁর জেলমুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আদালত সূত্রে খবর, সিবিআইয়ের দায়ের করা সমস্ত মামলায় আগেই জামিন পেয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। তবে রাজ্য পুলিশের ৩০৮টি মামলার মধ্যে বারাসাত থানার দু’টি মামলায় জামিন না পাওয়ায় এতদিন তাঁকে অন্তরীণ থাকতে হয়েছিল। সুদীপ্ত সেনের আইনজীবীরা আদালতে সওয়াল করেন যে, দীর্ঘ ১৩ বছর জেলবন্দি থাকলেও এখনও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথাও আদালতকে জানানো হয়। শুনানিতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, চার্জশিট জমার ১০ বছর পরেও কেন বিচার শুরু হলো না?

বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ ৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে এই জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে জেলমুক্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে হাইকোর্ট। সুদীপ্ত সেনকে তাঁর পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে নিয়মিত থানায় হাজিরা দিতে হবে এবং ট্রায়াল চলাকালীন আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। জালিয়াতির মামলায় উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির কম মূল্যে বিক্রয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সারদা কর্তার এই জেলমুক্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সুদীপ্ত সেন অতীতে জেল থেকে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে চিঠি লিখেছিলেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় হয়েছিল। এখন ১৩ বছর পর তাঁর এই ফেরা এবং আমানতকারীদের বকেয়া টাকা ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *