ডংকিয়া লা পাসের দুর্গম পথে পর্যটকদের রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান

সিকিমের লাচেনে আটকে পড়া পর্যটকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। বুধবার সকাল থেকে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতার ডংকিয়া লা পাসের অত্যন্ত দুর্গম গিরিপথ দিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে গ্যাংটকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রবল তুষারপাত ও ধসের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই অঞ্চলে প্রশাসনের তৎপরতায় পর্যটকরা অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
বরফ সরিয়ে বিকল্প পথের সন্ধান
গত রবিবার থেকে লাচেনে আটকে ছিলেন বহু পর্যটক। মূল রাস্তাগুলি ধসের কারণে বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে ডংকিয়া লা পাসকে বেছে নেওয়া হয়। জিরো পয়েন্ট, ইয়ামথাং এবং লাচুং হয়ে পর্যটকদের গ্যাংটকে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাস্তার ওপর জমে থাকা পুরু বরফের আস্তরণ সরিয়ে বুধবার ভোর থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু করে সেনাবাহিনী ও সিকিম পুলিশ।
তারাম চু এলাকায় অস্থায়ী ফুটব্রিজ
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে লাচেন কার্যত মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। যাতায়াত স্বাভাবিক করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তারাম চু এলাকায় একটি অস্থায়ী ফুটব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গন জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ধস কবলিত রাস্তাগুলো পুনর্গঠন করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং চ্যালেঞ্জিং। তবে আবহাওয়া কিছুটা উন্নত হওয়ায় পর্যটকদের সরানোর কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ ও তৎপরতা
উদ্ধারকাজ চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন এবং পুলিশ সুপার এলবি ছেত্রী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ধস বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন সিকিমের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক সান্ডুপ লেপচা। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণে স্থানীয়দের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি। বর্তমানে প্রায় সব পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।