ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে গ্রামে রাজনৈতিক দলের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল মঙ্গলকোটের চাকদা

ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে গ্রামে রাজনৈতিক দলের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল মঙ্গলকোটের চাকদা

পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের চাকদা গ্রাম। বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক বাসিন্দার নাম বাদ পড়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় মহিলারা। তাঁদের সাফ কথা, যতক্ষণ না ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন হচ্ছে, ততক্ষণ গ্রামে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

নজিরবিহীন প্রতিবাদ ও গ্রামের কড়া পাহারা

মঙ্গলকোটের চাকদা গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ছে খেজুর গাছ থেকে শুরু করে ক্লাব ঘরের দেওয়ালে টাঙানো সতর্কীকরণ পোস্টার। গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তাঁরা কোনও রাজনৈতিক প্রচার গ্রামে বরদাস্ত করবেন না। গ্রামের সীমানায় রীতিমতো পাহারা বসিয়েছেন মহিলারা। দলমত নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দলের জন্যই এই প্রবেশ নিষেধের ফতোয়া জারি করা হয়েছে।

কেন এই গণবিক্ষোভ

চাকদা গ্রামের ৫৩ নম্বর বুথে মোট ৭২৮ জন ভোটার রয়েছেন। অভিযোগ, অতি সম্প্রতি সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকায় দেখা গিয়েছে যে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার কিছু চাঞ্চল্যকর দিক উঠে এসেছে:

  • কারও বাবা-মায়ের নাম তালিকায় থাকলেও দুই ছেলের নাম গায়েব।
  • অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে স্ত্রীর নাম থাকলেও স্বামীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • এমনকি বংশপরম্পরায় ভারতের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বহু প্রবীণ মানুষের নাম তালিকায় নেই।
  • বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সব নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যানে বঞ্চনার চিত্র

তথ্য অনুযায়ী, চাকদা গ্রামের ৫৩ নম্বর বুথে ২৩৬ জনের শুনানি হয়েছিল, যার মধ্যে ২০০ জনেরই নাম বাতিল করা হয়েছে। পাশের পালিগ্রামের বরুলিয়াতেও ১২১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। আয়েশা বিবি বা সাহাদ আলি শেখের মতো বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে ভোট দেওয়ার পরেও আজ তাঁদের পরিচয় সংকটে। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে গোটা গ্রাম এখন এককাট্টা।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

এই গণবিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে রাজনৈতিক মহলেও। তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশনের গাফিলতি হিসেবে দেখছেন এবং গ্রামবাসীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী শিশির ঘোষ দাবি করেছেন যে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া উচিত নয় এবং তাঁরা সরাসরি গ্রামে গিয়ে মানুষের সাথে কথা বলতে চান। তবে গ্রামবাসীদের অনড় মনোভাবের কারণে কোনও দলই এখন পর্যন্ত গ্রামে ঢুকতে সাহস পায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *