সবরীমালা বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান কেন্দ্রের যুক্তি খারিজ করে বড় বার্তা

সবরীমালা বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান কেন্দ্রের যুক্তি খারিজ করে বড় বার্তা

সবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবার এক নতুন মোড় নিয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আইনি যুক্তির লড়াইয়ে বিচার ব্যবস্থার এক্তিয়ার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। ধর্মীয় আচারের নামে চলা প্রথাগুলো আদালতের বিচার্য বিষয় হতে পারে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।

আদালতের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও কেন্দ্রের আপত্তি

শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন যে, কোনো ধর্মীয় প্রথা কুসংস্কার কি না তা বিচার করার ক্ষমতা ধর্মনিরপেক্ষ আদালতের নেই। তাঁর মতে, বিচারপতিরা আইনের বিশেষজ্ঞ হলেও ধর্মীয় বিষয়ের সূক্ষ্মতা বিচার করার জ্ঞান তাঁদের থাকে না। সংবিধানের ২৫ (২) (বি) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে কেন্দ্র জানায়, এ বিষয়ে কেবল আইনসভা সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে পারে।

তবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ কেন্দ্রের এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দেয়। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়:

  • ধর্মের নামে চলা অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কার যাচাই করার পূর্ণ অধিকার আদালতের রয়েছে।
  • সংবিধান বিরোধী কোনো ধর্মীয় প্রথা থাকলে আদালত সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ার রাখে।
  • আইনসভা আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে, কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

ডাইনিপ্রথা ও সামাজিক নৈতিকতার প্রশ্ন

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি আমানুল্লা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কঠোর ভাষায় কেন্দ্রের অবস্থানের বিরোধিতা করেন। বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন তোলেন যে, যদি কোনো ধর্মীয় আচারের দোহাই দিয়ে ‘ডাইনিপ্রথা’র মতো কুসংস্কার চালানো হয়, তবে কি আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না? জনস্বার্থ এবং সামাজিক নৈতিকতা রক্ষায় আদালত যে কোনো সময় নির্দেশ দিতে পারে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

লিঙ্গ বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতা নিয়ে বড় মন্তব্য

বেঞ্চের একমাত্র মহিলা সদস্য বিচারপতি নাগরত্না ঋতুস্রাবকালীন অস্পৃশ্যতা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন করেন, কোনো নারী মাসের নির্দিষ্ট তিন দিন অস্পৃশ্য থাকবেন এবং চতুর্থ দিনে আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবেন—এমন প্রথা আধুনিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কেরল বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিচারপতির এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *