বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে নীতীশ কুমারের নতুন চালে তুঙ্গে জল্পনা

বিহারের রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন—নীতীশ কুমারের উত্তরসূরি কে হতে চলেছেন? জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) সুপ্রিমো তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ইস্তফার সময় যত এগিয়ে আসছে, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ততই জটিল হয়ে উঠছে। নীতীশের এই পদক্ষেপ এবং পরবর্তী নেতৃত্বের নির্বাচন নিয়ে এখন দেশজুড়ে প্রবল কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
শপথ ও ইস্তফার সময়সীমা
আগামী ১০ এপ্রিল নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, ১৪ এপ্রিলের মধ্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৫ এপ্রিল পাটনার গান্ধী ময়দানে বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। এই পটপরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিহারের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিজেপির অন্দরে তৎপরতা
বিহারের রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার বিজেপির পক্ষ থেকেই কেউ পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১০ এপ্রিল বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দিল্লির সদর দপ্তরে এই বৈঠকের পরেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কার হাতে যাচ্ছে বিহারের শাসনভার। তবে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব নির্দেশ দিয়েছে যে, নীতীশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিহার ইউনিটের কোনো নেতা যেন পরবর্তী নাম নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করেন।
নিশান্ত কুমারকে নিয়ে নতুন মোড়
বিজেপি যখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই জেডিইউ সদর দপ্তরে একটি পোস্টার ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘মজবুত বিরাসত, ভবিষ্য দমদার, নিশান্ত কুমার হ্যায় তৈয়ার’। নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার এই বার্তা জেডিইউ-এর কৌশলগত চাল বলে মনে করা হচ্ছে। দলের মুখপাত্র নীরজ কুমার নিশান্তের যোগ্যতার ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে সক্ষম বলে উল্লেখ করেছেন।
নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, নীতীশ কুমারের সবুজ সংকেত ছাড়া এ ধরনের পোস্টার রাজনীতিতে আসা আসাম্ভব। রাজ্যসভায় যাওয়ার মাধ্যমে বিহারের প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে নীতীশ কিছুটা দূরে সরে গেলেও, নিজের ছেলের নাম ভাসিয়ে দিয়ে তিনি বিজেপির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরিক দলকেও বার্তা দিচ্ছেন যে, বিহারের রাজনীতিতে তার গুরুত্ব এখনও ফুরিয়ে যায়নি।