মার্কিন ইরান যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা মোদির বিদেশনীতির বড় পরাজয় দাবি কংগ্রেসের

মার্কিন ইরান যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা মোদির বিদেশনীতির বড় পরাজয় দাবি কংগ্রেসের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবর আসতেই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একে ভারতের বিদেশনীতির চরম ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছে তারা।

ব্যক্তিগত কূটনীতির ওপর বড় ধাক্কা

কংগ্রেসের দাবি, বর্তমান সরকারের ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক কূটনীতি’ আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে। দলের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশের মতে, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে বিশ্বমঞ্চে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েল সফরের পরপরই যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের নিষ্ক্রিয়তা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। বিশেষ করে হোয়াইট হাউস থেকে আসা আসাম্মানজনক মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাত শিবির।

পাকিস্তানের প্রাসঙ্গিকতা ও ভারতের ব্যর্থতা

কংগ্রেস নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত যেখানে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে করার নীতি নিয়ে এগোচ্ছিল, সেখানে এই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা নয়াদিল্লির সেই কৌশলকে ব্যর্থ প্রমাণ করেছে। আর্থিক সংকটে জর্জরিত এবং বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল একটি দেশ কীভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় জায়গা করে নিল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে বিরোধী দল। কংগ্রেসের মতে, তৎকালীন ইউপিএ সরকারের আমলের সফল বিদেশনীতির তুলনায় বর্তমান সরকারের অবস্থান অনেকটাই ফিকে।

৫৬ ইঞ্চির ছাতি নিয়ে কটাক্ষ

জয়রাম রমেশ কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকেও নিশানা করতে ছাড়েননি। এর আগে পাকিস্তান সম্পর্কে বিদেশমন্ত্রীর কড়া মন্তব্য এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারকে বিঁধেছেন তিনি। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভারত বর্তমানে ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করা সত্ত্বেও কেন এই শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পারল না, তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দেশগুলির তালিকায় আমেরিকা, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো থাকা সত্ত্বেও কেন ভারত আলোচনার বাইরে রয়ে গেল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *