বাংলায় বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণ ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

বাংলার ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠল। বুধবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে ‘ভারত জোড়ো অভিযান’ ও ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ নামক দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ এবং ডঃ দীপঙ্কর দে-র মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন।
বেছে বেছে ভোটার বাতিলের অভিযোগ ও কৌশল
সংগঠনগুলোর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে জনমতের তোয়াক্কা না করে পেশ পেশিশক্তির মাধ্যমে বাংলা দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে শাসক দল। এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে বলে অভিযোগ:
- টার্গেটেড ভোটার এলিমিনেশন: বিশেষ করে মুসলিম এবং মহিলা ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- কৌশলগত এলাকা নির্বাচন: যেসব আসনে গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের মার্জিন কম ছিল, সেখানেই সবথেকে বেশি সংখ্যক নাম কাটা হয়েছে।
- বৈষম্যমূলক আচরণ: উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত বা রাজস্থানের মতো রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চললেও, শুধুমাত্র বাংলাতেই কেন বড়সড় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখা দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সাংবাদিক সম্মেলনে যোগেন্দ্র যাদব অভিযোগ করেন, কমিশন সম্পূর্ণ নির্লজ্জভাবে অসাংবিধানিক কাজ করছে। প্রায় ৯২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার পরও কেন সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত হস্তক্ষেপ করছে না, সেই বিষয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অর্থনীতিবিদ ও সমাজকর্মীদের মতে, মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্বের ছায়া স্পষ্ট।
আইনজীবী ও বিশিষ্টজনদের বক্তব্য, ভোটারদের বলা হচ্ছে এবার ভোট দিতে না পারলে পরের বার সুযোগ দেওয়া হবে। এই মানসিকতাকে তীব্র কটাক্ষ করে সুমন ভট্টাচার্য জানান, গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত রাখা বিচারব্যবস্থার আদর্শ হতে পারে না।
বিরোধীদের একজোট লড়াই ও আইনি পদক্ষেপ
অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদচ্যুতির দাবি জানিয়ে বিরোধীদের দেওয়া নোটিশ খারিজ হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, আপ এবং ডিএমকে-র মতো দলগুলো লোকসভার স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং অভিষেক মনু সিংভিদের দাবি, অভিযোগকারীদের বক্তব্য না শুনেই নোটিশ খারিজ করা গণতন্ত্রবিরোধী। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী জোট দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।