বজ্রবৃষ্টিতে ভিজছে বাংলা, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক বৃষ্টি কোথায় জানাল হাওয়া অফিস

সোমবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলা দুর্যোগ থামার লক্ষণ নেই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা, সঙ্গে চলছে ঝেঁপে বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে এমন টানা বৃষ্টি গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি। বর্তমানে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যার প্রভাবে রাজ্যে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানে শীর্ষে রয়েছে কল্যাণী, যেখানে ৫১.২ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে বর্ধমান (৪৫.৬ মিমি), সল্টলেক (৩৯.৬ মিমি) এবং মগরা (৩৮ মিমি)। উলুবেড়িয়া, বসিরহাট, দমদম এবং ব্যারাকপুরেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতার আলিপুরে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৫.৪ মিমি। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, বাগডোগরা এবং দার্জিলিংয়েও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে কালবৈশাখীর পরিস্থিতি বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, নদীয়া, দুই মেদিনীপুর এবং দুই ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আগামী কয়েক দিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকলেও শুক্রবার থেকে তাপমাত্রার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তবে আপাতত বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না রাজ্যবাসী। বিশেষ করে বিকেলের দিকে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।