নাসিকে আইটি সংস্থার আড়ালে মারাত্মক কীর্তি! যৌন হেনস্থা থেকে জোর করে গোমাংস খাওয়ানো, গ্রেপ্তার ৬

নাসিকে আইটি সংস্থার আড়ালে মারাত্মক কীর্তি! যৌন হেনস্থা থেকে জোর করে গোমাংস খাওয়ানো, গ্রেপ্তার ৬

মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় একটি আইটি কো ম্পা নির বিপিও (BPO) সার্ভিসে কর্মরত নারী কর্মীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জুনিয়র লেভেলের নারী কর্মীদের যৌন হেনস্তা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ ৬ জন টিম লিডারকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে ওই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনা ও গুরুতর অভিযোগের বিবরণ

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে নারী কর্মীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত তৈসিফ আত্তার, দানিশ, শাহরুখ শেখ এবং রাজা মেমন এক হিন্দু যুবককেও ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করেছে। ওই যুবককে দিয়ে জোর করে নামাজ পড়ানো এবং গোমাংস (Beef) খেতে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় ৮ জন নারী এবং ১ জন পুরুষ ভুক্তভোগী সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এইচআর বিভাগের উদাসীনতা ও পুলিশের পদক্ষেপ

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা প্রতিরোধের জন্য ‘পশ’ (POSH) পলিসি থাকলেও এই কো ম্পা নিতে তার কোনো প্রয়োগ ছিল না। ভুক্তভোগীরা যখন কো ম্পা নির হিউম্যান রিসোর্স (HR) প্রধানের কাছে অভিযোগ জানাতে যান, তখন তিনি বিষয়টিকে ‘মাল্টিন্যাশনাল কো ম্পা নিতে স্বাভাবিক বিষয়’ বলে এড়িয়ে যান। দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে পুলিশ এখন কো ম্পা নির এইচআর হেডের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে।

সংগঠিত অপরাধের সন্দেহ ও বিশেষ তদন্ত দল

ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে নাসিক পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং বড় কোনো ফাণ্ডিংয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৯টি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছে।

একঝলকে

  • স্থান: নাসিক, মহারাষ্ট্র (একটি আইটি কো ম্পা নির বিপিও ইউনিট)।
  • অভিযুক্ত: ৬ জন টিম লিডার এবং কো ম্পা নির এইচআর হেড।
  • প্রধান অভিযোগ: যৌন হেনস্তা, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।
  • অন্যান্য তথ্য: ভুক্তভোগী এক যুবককে গোমাংস খাওয়াতে বাধ্য করা এবং নামাজ পড়তে চাপ দেওয়ার অভিযোগ।
  • তদন্ত: বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন এবং মোট ৯টি মামলা দায়ের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *