লস্কর মডিউল ফাঁসের পর উত্তাল উপত্যকা জঙ্গি যোগে বরখাস্ত দুই সরকারি কর্মী

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। লস্কর-ই-তোইবার বড়োসড়ো জঙ্গি মডিউল ধরা পড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশের অভিযোগে দুই সরকারি কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার নির্দেশে প্রশাসনিক এই পদক্ষেপ উপত্যকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অভিযুক্তদের পরিচয় ও অভিযোগের প্রকৃতি
প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ধৃত দুই কর্মী দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছিলেন। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মীর বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- ফারহাত আলি খান্দায়: তিনি রামবানের শিক্ষা দপ্তরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী হিজবুল-মুজাহিদিনকে গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য পাচার করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
- মহম্মদ শাফি দার: তিনি গ্রামোন্নয়ন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি লস্কর-ই-তোইবার একজন সক্রিয় সহযোগী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতেন।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট ও অভিযানের সাফল্য
গত সোমবার শ্রীনগর পুলিশ লস্কর-ই-তোইবার একটি শক্তিশালী মডিউল ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এই অভিযানে পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গি আবদুল্লা ওরফে আবু হুরেইরসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে দুইজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং বাকি তিনজন শ্রীনগরের স্থানীয় বাসিন্দা। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তারা ১০ দিনের পুলিশি হেপাজতে রয়েছে। পুলিশের এই সাফল্যই সরকারি দপ্তরে লুকিয়ে থাকা এই স্লিপার সেলদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের কঠোর বার্তা ও উদ্বেগ
জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০১৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কারণে উপত্যকায় মোট ৯০ জন সরকারি কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ১০ মার্চও জলশক্তি দপ্তরের তিনজন কর্মীকে একই অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে থেকে জঙ্গিদের তথ্য সরবরাহ করা বা তাদের সহায়তা করা নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি। বারংবার এ ধরনের ঘটনা সামনে আসায় প্রশাসনের অন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে যে কাউকে রেয়াত করা হবে না, এই বার্তাই স্পষ্ট করতে চাইছে প্রশাসন।