নির্বাচন সদনে ধুন্ধুমার কমিশনারের সাথে তৃণমূল প্রতিনিধিদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে দিল্লির নির্বাচন সদন এক বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থাকল। বুধবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং কমিশনারের আচরণ নিয়ে এখন জাতীয় রাজনীতি উত্তাল।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়ান, সাগরিকা ঘোষ, মানেকা গুরুস্বামী এবং সাকেত গোখলে। সূত্রের খবর, বৈঠক শুরু হতেই কমিশনারের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে কমিশনার প্রতিনিধিদের ‘গেট লস্ট’ বা বেরিয়ে যেতে বললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পালটা জবাবে ডেরেক ও’ব্রায়ান কমিশনারকে ‘শাট আপ’ বলে আক্রমণ করেন এবং তাঁকে ‘বিজেপির দালাল’ হিসেবে অভিহিত করেন।
কমিশনের বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
বৈঠকের পরেই নির্বাচন কমিশন তাদের এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, বাংলার ভোট হবে ‘ভয়হীন, ছাপ্পাহীন, হিংসা রহিত এবং প্রলোভনহীন’। এই পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা মূলত শাসক দলের দিকে আঙুল তুলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিরোধী দলগুলোর দাবি, অন্য কোনো রাজ্যের ক্ষেত্রে কমিশন এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেনি, যা তাদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বিরোধী শিবিরের তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর বিজেপি বিরোধী সব দলই কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
- তৃণমূল কংগ্রেস: ডেরেক ও’ব্রায়ান সরাসরি কমিশনারকে ‘ক্রিমিনাল’ এবং ‘বিজেপির বি-টিম’ বলে আক্রমণ করেছেন। দলটির দাবি, নির্বাচন হতে হবে দিল্লির নিয়ন্ত্রণমুক্ত এবং পক্ষপাতহীন।
- আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেস: আপ কমিশনকে ‘বিজেপির দালাল’ এবং কংগ্রেস ‘গণতন্ত্রের হত্যাকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
- রাজনৈতিক প্রশ্ন: বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, কমিশনের এই বিবৃতির খসড়া কি বিজেপি অফিস থেকে তৈরি হয়ে এসেছে?
বৈঠকের নেপথ্য কারণ ও দাবিদাওয়া
তৃণমূলের পক্ষ থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দেওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন প্রতিনিধিরা। সাগরিকা ঘোষের নেতৃত্বে চার পাতার একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে যেখানে কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং বিভিন্ন প্রামাণ্য ছবি তুলে ধরা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট ইস্যুতে নয়টি চিঠি দিলেও কমিশনার একটিরও উত্তর দেননি।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই সংঘাতের ফলে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমানসে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে ‘গেট লস্ট’ এবং ‘শাট আপ’-এর মতো শব্দপ্রয়োগ সাংবিধানিক পদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে বাংলার ভোট ময়দানে এই সংঘাতের রেশ ইভিএমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।