স্টারগেট ডেটা সেন্টার ধ্বংসের হুমকিতে কি পিছু হটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কেন্দ্রে এবার উঠে এসেছে প্রযুক্তির লড়াই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার যে চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তার পালটা জবাবে তেহরান সরাসরি আমেরিকার প্রযুক্তিগত মেরুদণ্ডে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো হামলা হলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলো চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
আমেরিকার প্রযুক্তিগত আধিপত্যের ওপর বড় হুমকি
ইরানের মূল লক্ষ্য এখন আবু ধাবিতে অবস্থিত ওপেন এআইয়ের ‘স্টারগেট’ ডেটা সেন্টার। প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটি আমেরিকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গবেষণার প্রধান স্তম্ভ।
- বিশাল পরিধি: প্রায় ২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই কেন্দ্রটি বিশ্বের প্রযুক্তিগত মানচিত্রে ওয়াশিংটনের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার প্রধান হাতিয়ার।
- কৌশলগত গুরুত্ব: ট্রাম্প প্রশাসন এই ডেটা সেন্টারকে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং উন্নত পরিকাঠামো নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
- বড় বিনিয়োগকারী: মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, ওরাকল এবং সফ্টব্যাংকের মতো বিশ্বসেরা প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এই মেগা প্রকল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারগেট ধ্বংস হওয়ার অর্থ হবে আমেরিকার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কয়েক দশক পিছিয়ে যাওয়া। সম্ভবত এই বিশাল আর্থিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই ট্রাম্পের প্রাথমিক কঠোর অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
পরমাণু ইস্যুতে নতুন মোড় ও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ
সরাসরি সামরিক সংঘাতের বদলে মার্কিন প্রশাসন এখন ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, ইরানের কাছে থাকা উচ্চমানের ইউরেনিয়াম খুঁজে বের করে তা নিষ্ক্রিয় করতে তেহরানের সঙ্গেই কাজ করতে চায় ওয়াশিংটন। তবে এই কূটনৈতিক বার্তার আড়ালে প্রচ্ছন্ন হুমকিও বজায় রেখেছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে না দেয়, তবে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হবে।
হরমুজ প্রণালী ও ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা
দুই দেশের মধ্যে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি হলেও তা কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরান ফের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এই জলপথ বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।