আকাশছোঁয়া সোনার দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ৯ এপ্রিল ২০২৬-এর আপডেট দেখুন

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের ক্রমাগত ওঠানামার প্রভাবে ভারতের বাজারে সোনার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের বাজার দর অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর দামে বড় কোনো পতন তো দূরের কথা, বরং স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই তা রেকর্ড স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারের লগ্নিকারীদের সাবধানী পদক্ষেপের কারণে ধাতু দুটির দামে এই অস্থির অবস্থা তৈরি হয়েছে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারের প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বুলিয়ন রেট এবং ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে ডলারের বিনিময় মূল্যের ওপর ভিত্তি করে সোনা ও রুপোর দাম নির্ধারিত হচ্ছে। বর্তমানে সোনা কেবল অলঙ্কার হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। তবে চড়া দামের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মরসুম সামনে থাকলেও উচ্চমূল্যের চাপে খুচরো বাজারে চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শহরভেদে সোনার সর্বশেষ বাজার দর
ভারতের বিভিন্ন মেট্রো শহরগুলোতে আজ খুচরো বাজারে সোনার দামে সামান্য তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। ২৪ ক্যারেট পাকা সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১৫,০০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
- কলকাতা ও মুম্বই: আজ দুই শহরেই ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম ১৫,১৪৮ টাকা। অলঙ্কার তৈরির ২২ ক্যারেট সোনার দাম গ্রাম প্রতি ১৩,৮৮৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১১,৩৬১ টাকা।
- দিল্লি: রাজধানীতে সোনার দাম কিছুটা বেশি। এখানে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি গ্রাম ১৫,১৬৩ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১৩,৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- চেন্নাই: দক্ষিণ ভারতের এই শহরে সোনা সবচেয়ে মহার্ঘ। এখানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১৫,২৭৩ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১৪,০০০ টাকা।
রুপোর রেকর্ড দাম ও শিল্পজাত চাহিদা
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। মূলত শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর দামে ব্যাপক ওঠা-নামা বা ভোলাটিলিটি দেখা যাচ্ছে। দিল্লি, মুম্বই এবং কলকাতায় আজ প্রতি কেজি রুপো ২,৫৫,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চেন্নাইতে এই দাম আরও কিছুটা বেশি, সেখানে কেজি প্রতি রুপোর দর ২,৬০,০০০ টাকা।
দাম বাড়ার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
- ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো নিরাপদ সম্পদে লগ্নি বাড়াচ্ছেন।
- আমদানি শুল্ক: ভারতে সোনার ওপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক থাকায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে।
- টাকা ও ডলারের লড়াই: আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাকার মান কমছে, যার ফলে আমদানিকৃত সোনার দাম বাড়ছে।