বড় খবর! সান্দাকফুতে তুষারপাত, ভ্রমণে জারি কড়া নিষেধাজ্ঞা

ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন এপ্রিল মাস। সমতলে যখন ঝড়-বৃষ্টির দাপট, তখন পাহাড়ের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বসন্তের রঙিন আভা ছাপিয়ে উত্তরবঙ্গের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল এখন সাদা বরফের চাদরে ঢাকা। পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু এবং পার্শ্ববর্তী ফালুটে শুরু হয়েছে ভারী তুষারপাত। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এমন পরিস্থিতি কার্যত বিরল।
বসন্তের পাহাড়ে শীতের আমেজ
গত বুধবার থেকে সান্দাকফুতে তুষারপাত শুরু হয়েছে। এর আগে সোমবার রাত থেকে সিকিমের উচ্চাঞ্চলেও বরফ পড়া শুরু হয়। ভারত-নেপাল সীমান্তের এই অঞ্চল এখন কয়েক ইঞ্চি পুরু বরফের স্তরে ঢেকে গেছে। সাধারণত মার্চ বা এপ্রিল মাসে সান্দাকফুতে এমন ধারাবাহিক তুষারপাত দেখা যায় না বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রভাবে দার্জিলিং শহরে তুষারপাত না হলেও কনকনে ঠান্ডা হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে শীতের আমেজ ফিরে এসেছে।
প্রশাসনের সতর্কতা ও পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা
আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি আচরণের কারণে পর্যটকদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সিকিম ও দার্জিলিংয়ের উঁচু এলাকায় ভারী তুষারপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।
তুষারপাতের ফলে পাহাড়ি পথে পিচ্ছিল ভাব তৈরি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে সান্দাকফু ও ফালুটের মতো উঁচু এলাকাগুলোতে পর্যটকদের ভ্রমণে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায় খুশির হাওয়া
আসাময়ে তুষারপাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু জানিয়েছেন, এই বিরল ঘটনার খবর পেয়ে পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়ছে। বসন্তের মরসুমে বরফ পেয়ে খুশি ভ্রমণপিপাসুরাও। অনেক জায়গায় পর্যটকদের বরফ নিয়ে মেতে উঠতে দেখা গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এই তুষারপাত মরসুমের শেষে ব্যবসায় বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।
একঝলকে
- স্থান: সান্দাকফু ও ফালুট (পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ)।
- উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১,৯৩০ ফুট।
- বর্তমান পরিস্থিতি: ভারী তুষারপাত ও ঝোড়ো হাওয়া।
- নিষেধাজ্ঞা: ১২ এপ্রিল পর্যন্ত উঁচু এলাকায় পর্যটক যাতায়াত বন্ধ।
- কারণ: সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া আবহাওয়াগত দুর্যোগ।
- প্রভাব: পাহাড়ি পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা ও দার্জিলিং শহরে কনকনে ঠান্ডা।