মনোনয়ন জমা দিতে ৯ তারিখেই কেন ভরসা রাখলেন অভয়ার মা
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে। জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে আজ নজর কেড়েছে এক বিশেষ রাজনৈতিক তৎপরতা। আজ উত্তর ২৪ পরগনার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিচ্ছেন রত্না দেবনাথ, যিনি রাজ্য রাজনীতিতে ‘অভয়া’র মা হিসেবে পরিচিত। এদিন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাঁর চোখেমুখে ছিল হারানো সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জেদ এবং বর্তমান শাসকদলকে উৎখাতের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি।
কেন বেছে নিলেন ৯ তারিখ
মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য ৯ তারিখ বেছে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর আবেগঘন ও ট্র্যাজিক কারণ। রত্না দেবনাথের বয়ানে উঠে এসেছে এক মর্মস্পর্শী ইতিহাস:
- স্মৃতির তারিখ: ৯ তারিখেই তাঁর কোল আলো করে তাঁর সন্তান পৃথিবীতে এসেছিল।
- বিয়োগান্তক অধ্যায়: দুর্ভাগ্যবশত, একটি ৯ তারিখেই তাঁর কোল থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর সন্তানকে।
- প্রতীকী লড়াই: নিজের জীবনের সবচেয়ে খুশির এবং সবচেয়ে কষ্টের দিনটিকে লড়াইয়ের সূচনা হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাইছেন।
হেভিওয়েট নেতাদের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ
মনোনয়ন পেশের এই কর্মসূচিকে ঘিরে জলহাটিতে বিজেপির শক্তিপ্রদর্শন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বিশেষ দিনে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্বামী এবং অসংখ্য দলীয় কর্মী। এছাড়াও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবের। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে স্মৃতি ইরানির সঙ্গে স্থানীয় মন্দিরে পুজো দেওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে প্রার্থীর।
‘থ্রেট কালচার’ ও তৃণমূলের সঙ্গে সংঘাত
প্রচার পর্বের শুরু থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে রত্না দেবনাথের সংঘাত তীব্র হয়েছে। গতকাল প্রচারে বেরিয়ে তিনি যে বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে সরব হয়েছেন প্রার্থী।
- হামলার অভিযোগ: রত্না দেবনাথের অভিযোগ, তৃণমূলের মদতপুষ্ট বাহিনী তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং কর্মীদের মারধর করেছে।
- পাল্টা চ্যালেঞ্জ: তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের ‘বহিরাগত’ তকমা উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর সাথে থাকা প্রত্যেকের আধার কার্ড পরীক্ষা করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে তাঁরা স্থানীয় কি না।
- ভয়ের পরিবেশ: আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখে শাসকদল ভীত হয়েই বাধার সৃষ্টি করছে।
প্রভাব ও জনসমর্থন
জলহাটির অলিগলিতে রত্না দেবনাথের সমর্থনে আবেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বয়স্ক থেকে যুবক—সাধারণ মানুষ বিচার পাওয়ার আশায় তাঁকে সমর্থন জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘অভয়া’র মায়ের এই লড়াই কেবল একটি আসনের জয়-পরাজয় নয়, বরং এটি রাজ্যের বর্তমান বিচারব্যবস্থা এবং নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে এক বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।