নন্দীগ্রামের ছক এবার ভবানীপুরে হলদিয়ার সভা থেকে মমতার গড় জয়ের ডাক দিলেন মোদী

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম যে রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করেছিল, আসন্ন নির্বাচনে সেই একই গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতার ভবানীপুর। রবিবার হলদিয়ার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরকে নিশানা করে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তার এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নন্দীগ্রাম মডেলের পুনরাবৃত্তি
পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি ছিল রাজ্য রাজনীতির মূল ভরকেন্দ্র। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর জয় বিজেপির জন্য ছিল এক বড় মাইলফলক। হলদিয়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী সেই পুরনো স্মৃতি উসকে দিয়ে দাবি করেন, নন্দীগ্রাম যেভাবে পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল, এবার ভবানীপুরও সেই পথেই হাঁটবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রে পরিবর্তনের কথা বলে মোদী আসলে শাসকদলের মূলে আঘাত হানতে চাইছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তীব্র আক্রমণ
হলদিয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রী আগাগোড়াই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। তার ভাষণের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল সরকারের শাসনকাল ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি। মোদীর মতে:
- পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
- এবার সেই পরিবর্তনের চাকা ঘুরবে খোদ ভবানীপুর কেন্দ্রে।
- গোটা পশ্চিমবঙ্গ এখন তৃণমূলের তথাকথিত ‘অপশাসন’ থেকে মুক্তি চাইছে।
- পরিবর্তন কেবল একটি বা দুটি কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়বে।
ভবানীপুর ঘিরে নতুন জল্পনা
২০২১ সালে নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় ছিল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যদিও তা নিয়ে আইনি লড়াই এবং কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভবানীপুরের প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে যেমন ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মুখে পড়তে হচ্ছে, তেমনই বিজেপি কর্মীদের পক্ষ থেকেও পাল্টা স্লোগান উঠছে। গেরুয়া শিবিরের একাংশ এখন থেকেই দাবি তুলছে, ‘ভবানীপুরে জিতবে যে, মুখ্যমন্ত্রী হবে সে’। এই স্লোগান রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশলেরই আভাস দিচ্ছে।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাসী সুর এবং ভবানীপুরকে পাখির চোখ করা বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের স্মৃতি কি ভবানীপুরে ফিরবে? গেরুয়া শিবির কি সত্যিই মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে কোনো বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে? এই প্রশ্নগুলোই এখন বাংলার সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে। প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের পর শাসকদল তাদের গড় রক্ষায় কতটা মরিয়া হয়ে ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।