শান্তি চুক্তিতে বড় ধাক্কা যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রণক্ষেত্র লেবানন ও অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশা জাগিয়েও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেস্তে যাওয়ার মুখে। একদিকে লেবাননে ইজরায়েলি সেনার নজিরবিহীন বিমান হামলা এবং অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া—এই দুই ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
লেবানন কেন চুক্তির পথে প্রধান বাধা
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু ইরান তার অবস্থান বদলে পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেহরানের দাবি, লেবাননের ওপর ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদেই তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মতে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়াও তাদের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
লেবাননে ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলা
বৃহস্পতিবার লেবাননের মাটিতে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। যুদ্ধের ভয়াবহতা বোঝা যায় নিচের তথ্যগুলো থেকে:
- মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বেইরুট, দক্ষিণ লেবানন ও বেকা ভ্যালিতে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
- বুধবারের হামলায় অন্তত ১৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৮০০-রও বেশি মানুষ।
- ইজরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে তাদের কার্যক্রম চালায়, যদিও স্থানীয়রা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে হরমুজ সংকটের প্রভাব
ইরান শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর প্রতি ব্যারেল তেলে ১ ডলার পর্যন্ত টোল আরোপ করেছে। বুধবার এই পথে মাত্র ১১টি জাহাজ চলাচল করতে পেরেছে এবং বৃহস্পতিবার অনেক জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন যে, যুদ্ধবিরতি সব অঞ্চলের জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে এখন সকলের নজর আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের দিকে। সেখানে কোনো সমাধান সূত্র বেরোয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।