বঙ্গ জয়ে মোদীর ঝোড়ো সফর ও শাহর মেগা এন্ট্রি অলআউট লড়াইয়ে বিজেপি

বঙ্গ জয়ে মোদীর ঝোড়ো সফর ও শাহর মেগা এন্ট্রি অলআউট লড়াইয়ে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোটগ্রহণের বাকি আর মাত্র ১৩ দিন। ঠিক এই সময়েই বাংলার রাজনৈতিক জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। কোচবিহারের পর আজ বৃহস্পতিবার ফের রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লক্ষ্য একটাই—তৃণমূলের দুর্গে আঘাত হেনে পরিবর্তনের ডাক দেওয়া।

একদিনে তিন জেলায় মোদীর হাইভোল্টেজ প্রচার

নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপ বাড়িয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী মোদী একদিনে তিনটি জনসভা করবেন। তাঁর এই ঝটিকা সফরের সূচি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত:

  • হলদিয়া: শিল্পনগরী হলদিয়া থেকেই আজকের প্রচার শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী।
  • আসানসোল: হলদিয়ার পর তিনি সরাসরি চলে যাবেন খনি অঞ্চল আসানসোলে।
  • সিউড়ি: দিনের শেষ সভাটি করবেন বীরভূমের সিউড়িতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প ও খনি অঞ্চলের ভোটারদের প্রভাবিত করতেই মোদীর এই সফরসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। গোটা নির্বাচনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী মোট ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা করেছেন।

অমিত শাহর মেগা এন্ট্রি ও মোদীর রোড শো

প্রধানমন্ত্রীর সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার আসরে নামছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামীকাল তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা এবং খড়্গপুর সদরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা করবেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রচারের সূচিও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ১১ এপ্রিল তিনি জঙ্গিপুর, কাটোয়া ও বালুরঘাটে সভা করবেন এবং ১২ এপ্রিল শিলিগুড়িতে একটি বিশাল রোড শো করার কথা রয়েছে তাঁর। অর্থাৎ, টানা দুদিন বাংলার মাটিতেই ঘাঁটি গাড়বেন নমো।

আক্রমণের কেন্দ্রে দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ ইস্যু

এর আগে কোচবিহারের সভা থেকেই তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ব্রিগেডের সভার পর থেকেই শাসক শিবিরের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিজেপি এবার মূলত সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির ইস্যুকে হাতিয়ার করছে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, নির্বাচনের পর রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ দূর করে সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করা হবে।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে। শাসক দল একে ‘ষড়যন্ত্র’ বললেও বিজেপি একে আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে। হলদিয়া ও আসানসোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে মোদীর এই ঝোড়ো প্রচার ভোটারদের মনে কতটা আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে, এখন সেটাই দেখার। বিজেপি নেতৃত্বের আশা, মোদী-শাহর এই যুগলবন্দী প্রচারই তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্যে ভাঙন ধরাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *