মিলার ট্র্যাজেডিতে দিল্লির হার কিন্তু গাভাসকরের চোখে তিনি খলনায়ক নন

আইপিএল ২০২৬-এর রোমহর্ষক ম্যাচে শেষ মুহূর্তের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তোলপাড় ক্রিকেট মহল। জয়ের জন্য শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। ক্রিজে অভিজ্ঞ ডেভিড মিলার। পঞ্চম বলে নিশ্চিত এক রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি স্ট্রাইক ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শেষ বলে রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দিল্লিকে। মাত্র ১ রানে ম্যাচ হেরে যাওয়ায় এখন কাঠগড়ায় মিলার। তবে কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর এই প্রোটিয়া তারকাকে এককভাবে দোষী মানতে নারাজ।

জয়ের দোরগোড়ায় এসে কেন এই বিপর্যয়

ম্যাচের শেষ ওভারটি ছিল চরম উত্তেজনার। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের করা ওভারের শেষ দুই বলে সমীকরণ ছিল ২ রান। পঞ্চম বলে মিলার অনায়াসেই এক রান নিয়ে ম্যাচ টাই করতে পারতেন, যা খেলাটিকে সুপার ওভারে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করত। কিন্তু মিলার নিজের সামর্থ্যের ওপর ভরসা রেখে স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখেন। দুর্ভাগ্যবশত, শেষ বলটি প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের স্লোয়ার বাউন্সারে ব্যাটে সংযোগ করতে ব্যর্থ হন তিনি। বাই রান নিতে গিয়ে নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে কুলদীপ যাদব রান আউট হলে ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিল্লি।

বিশেষজ্ঞ মহলের ভিন্ন সুর

মিলারকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর তাকে আড়াল করেছেন। গাভাসকরের মতে, এটি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না বরং এটি ছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফল। তিনি বিশ্লেষণ করে জানান:

  • মিলার আগের বলগুলোতে যেভাবে স্বচ্ছন্দে মারছিলেন, তাতে শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ জেতানোর আত্মবিশ্বাস তাঁর ছিল।
  • নিজের ওপর ভরসা রাখা একজন বড় মাপের ব্যাটারের সহজাত প্রবৃত্তি।
  • কেভিন পিটারসেনও একই মত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, মিলার ভেবেছিলেন বড় শট না হলেও অন্তত এক রান পাওয়া নিশ্চিত।

ঝুঁকি না কি ভুল হিসাব

ক্রিকেটে অনেক সময় ফলাফলই নির্ধারণ করে দেয় সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল কি না। শেষ দুই ওভারে ৩২ রান প্রয়োজন থাকা অবস্থায় মিলারই একক লড়াইয়ে দিল্লিকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। যদি শেষ বলে তিনি চার বা ছয় মারতেন, তবে আজ তাঁকে বীরের মর্যাদা দেওয়া হতো। বিশ্লেষকদের মতে, মিলারের লড়াই দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল, তাই একটি মাত্র মুহূর্তের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাঁকে ‘খলনায়ক’ তকমা দেওয়া উচিত নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *