নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি কি ভবানীপুরেও? হলদিয়া থেকে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মোদীর

নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি কি ভবানীপুরেও? হলদিয়া থেকে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মোদীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ বাড়িয়ে হলদিয়ার জনসভা থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সাফ বার্তা, পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে পরাজয় হয়েছিল, এবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও তারই পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তৃণমূল সরকারের বিদায় নিশ্চিত করতে বিজেপি যে এবার ‘ভবানীপুর জয়’ বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের কেন্দ্রে হারানোকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তা অত্যন্ত স্পষ্ট।

শুভেন্দু অধিকারীর ওপর মোদীর অবিচল আস্থা

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৭৫ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবারের নির্বাচনেও সেই শুভেন্দু অধিকারীর রণকৌশল এবং লড়াইয়ের ওপরই পূর্ণ ভরসা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর মতে, বাংলাকে পুনরুদ্ধার করার এই লড়াই শুরু হবে ভবানীপুর থেকে। তিনি মনে করেন, নন্দীগ্রাম যেমন সেবার পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল, এবার ভবানীপুর সেই পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ দেবে।

ভবানীপুর যখন বিজেপির মূল লক্ষ্য

বিজেপি নেতৃত্বের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সরকার গঠনের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে পরাজিত করা তাদের রাজনৈতিক রণকৌশলের অন্যতম অংশ। হলদিয়ার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও শুভেন্দু অধিকারী এবং অতীতে অমিত শাহর দেওয়া বার্তাগুলো বিশ্লেষণ করলে নিচের বিষয়গুলো উঠে আসে:

  • টার্গেট ভবানীপুর: কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে এবার ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করছে বিজেপি।
  • শুভেন্দুর প্রতিশ্রুতি: প্রধানমন্ত্রীর আদেশের প্রতিধ্বনি করে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে মোদীর নির্দেশ পালন করবেন।
  • পরিবর্তনের হাওয়া: মোদীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটাতে ভবানীপুরের জয় হবে একটি প্রতীকী জয় যা গোটা রাজ্যে প্রভাব ফেলবে।

মোদীর গ্যারান্টি ও পাল্টা বিতর্ক

জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী কেবল রাজনৈতিক আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘৬টি গ্যারান্টি’র কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু করা থেকে শুরু করে নারী নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রীর করা ‘মাছ বন্ধের’ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মোদী পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই নির্বাচন সাধারণ ভোট নয়, বরং এটি বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।

একদিকে প্রধানমন্ত্রীর ঘনঘন বাংলা সফর এবং অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হাইকম্যান্ডের এই অগাধ আস্থা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচন গতবারের চেয়েও অনেক বেশি ব্যক্তিগত এবং মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হতে চলেছে।

একঝলকে

  • প্রধান বার্তা: নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হবেন বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর।
  • মূল ভরসা: পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছেন নরেন্দ্র মোদী।
  • নির্বাচনী লক্ষ্য: ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রীকে হারানোকে ‘ওয়ান পয়েন্ট অ্যাজেন্ডা’ হিসেবে দেখছে বিজেপি।
  • আশ্বাস: প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে সপ্তম পে কমিশনসহ একাধিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে বিজেপি।
  • রাজনৈতিক কৌশল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে ঢুকে তাঁকে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *