হলদিয়ায় মোদীর গ্যারান্টি ঝড় ও সপ্তম পে কমিশনের প্রতিশ্রুতিতে সরগরম বাংলার রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ বাড়িয়ে লক্ষ্মীবারে হলদিয়ায় নির্বাচনী জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির জল জমে থাকা মাঠ উপেক্ষা করে উপচে পড়া ভিড় দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। হলদিয়ার এই মঞ্চ থেকে তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিকশিত বাংলার স্বার্থে এই ‘নির্মম’ সরকারের বিদায় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে তোপ
হলদিয়ার শিল্প তালুকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এককালের সমৃদ্ধির প্রতীক তাম্রলিপ্ত বন্দর আজ জৌলুস হারিয়েছে এবং বহু কলকারখানায় তালা ঝুলছে। মোদী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন শিল্পের বদলে ‘অনুপ্রবেশকারীদের ফ্যাক্টরিতে’ পরিণত হয়েছে। যুব সমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল জমানায় যুবকরা ‘ডবল ধোঁকা’র শিকার হয়েছে। সিন্ডিকেট ও গুন্ডারাজ চলায় রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসছে না বলেও তিনি সরব হন।
তোষণের রাজনীতি ও সংরক্ষণের বিতর্ক
মাহিষ্য ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের আবেগকে হাতিয়ার করে মোদী তোষণ রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করে সংবিধানের অবমাননা করছে। মাহিষ্যরা এই সরকারের ভোটব্যাঙ্ক নয় বলেই তারা অবহেলিত হচ্ছে। বিহার ও আসামের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে কার্যকর না হওয়ায় মৎস্য চাষে বাংলা পিছিয়ে পড়ছে।
মহিলা সুরক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় স্কুল থেকে হাসপাতাল—কোথাও মহিলারা নিরাপদ নন। চিকিৎসক থেকে আইনজীবী, কেউই সুরক্ষা পাচ্ছেন না। তিনি সাফ জানান, তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারাই এখন সরকারের ভোটের ‘ঠিকাদার’ হিসেবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৬টি বিশেষ গ্যারান্টি
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে মোদী হলদিয়ার মঞ্চ থেকে ছয় দফা গ্যারান্টি ঘোষণা করেন:
- আইনের শাসন: রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ দূর করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
- স্বচ্ছতা: বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে প্রতিটি প্রশাসনিক কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে।
- পুরানো ফাইল পুনর্মূল্যায়ন: বিগত বছরগুলোতে হওয়া দুর্নীতি এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারের প্রতিটি মামলা পুনরায় তদন্ত করা হবে।
- দুর্নীতিবাজদের সাজা: জনগণের টাকা লুঠ করা প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীদের উপযুক্ত শাস্তির মাধ্যমে জেলে পাঠানো হবে।
- শরণার্থী ও অনুপ্রবেশ নীতি: প্রকৃত শরণার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার প্রদান এবং অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার করা হবে।
- সপ্তম পে-কমিশন: দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এদিন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে কাজ করলেই বাংলা ফের শ্রেষ্ঠ আসনে ফিরবে।