শান্তিপুরে বৃদ্ধ দম্পতির পাট্টা জমি দখলের চেষ্টা কাঠগড়ায় বিজেপি প্রধান ও প্রোমোটার

শান্তিপুরে বৃদ্ধ দম্পতির পাট্টা জমি দখলের চেষ্টা কাঠগড়ায় বিজেপি প্রধান ও প্রোমোটার

নদিয়ার শান্তিপুরের বাগাছড়া এলাকায় পাট্টা জমি দখলকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির স্থানীয় বিজেপি ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার ও পঞ্চায়েত সদস্যদের দিকে। প্রায় দেড় দশকের বসতভিটা রক্ষায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ

অভিযোগকারী শংকরী ধারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে তাঁরা ১২ শতক জমির পাট্টা পেয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে সেই জমিতেই তাঁরা বসবাস করছেন। বৃদ্ধ দম্পতির দাবি, পিন্টু তাম্বলিক ও কিংকর সাহা নামে দুই প্রোমোটার ওই জমির ওপর নজর দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বাগাছড়া পঞ্চায়েত প্রধান রোহিত এবং সদস্য পাপাই সাহা সরাসরি এই জমি দখলের প্রক্রিয়ায় মদত দিচ্ছেন। এমনকি তাঁদের উপস্থিতিতেই জমির একাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও আইনি লড়াই

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় স্তরে এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারানোর ভয়ে এবং প্রশাসনের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে তাঁরা বিচার বিভাগের শরণাপন্ন হয়েছেন।

রাজনৈতিক সংঘাত ও অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযুক্ত প্রোমোটার ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা সকলেই বিজেপি শিবিরের লোক। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান রোহিত। তাঁর দাবি, এটি একটি পুরনো জমি বিবাদ এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি কেবল দুই পক্ষের আমিন দিয়ে জমি পরিমাপের সময় উপস্থিত ছিলেন। কাউকে জমি দখল করে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেছেন। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই ঘটনা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। পাট্টা পাওয়া জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ভূমি সংস্কার আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *