বিজেপির কোটি কোটি টাকার প্রচার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে মিনাখাঁয় গর্জে উঠলেন মমতা

বিজেপির কোটি কোটি টাকার প্রচার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে মিনাখাঁয় গর্জে উঠলেন মমতা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলার রাজনীতি। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে বিজেপি নির্বাচনে জেতার চেষ্টা করছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চক্রান্ত চলছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে অর্থ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রচার চালাচ্ছে। এমনকি মিছিলে লোক আনার জন্য মাথাপিছু ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এছাড়া সীমান্তে বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোটদানে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি জনসভাকে সতর্ক করেন।

সংবিধান রক্ষা ও ভোটারদের প্রতি বিশেষ বার্তা

মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের সচেতন করে বলেন, ইভিএম মেশিন খারাপ থাকলে সেই মেশিনে যেন কেউ ভোট না দেন। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তিনি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কমিশনকে প্রভাবিত করে বৈধ ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে এবং বহিরাগতদের নাম তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। কারও নাম বাদ পড়লে ট্রাইব্যুনালে আবেদনের পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, এই লড়াইয়ে দল সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।

সুন্দরবন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান ও উন্নয়নের খতিয়ান

নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে সুন্দরবনবাসীর জন্য বড় ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান:

  • সুন্দরবনকে একটি আলাদা জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করানো হবে।
  • রাজ্যের নতুন সাতটি জেলার তালিকায় সুন্দরবন অন্যতম।
  • এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।

বাংলার ইলিশ ও স্বনির্ভরতার সাফল্য

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মৎস্য খাতের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগে ইলিশের জন্য ওপার বাংলার দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো, কিন্তু এখন বাংলাতেই পর্যাপ্ত ইলিশ উৎপাদিত হচ্ছে। ২০১৩ সালে ডায়মন্ড হারবারে যে গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল, তার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য ও বিরোধীদের তোপ

হাড়োয়া সার্কাস ময়দানের এই সভায় মিনাখাঁ কেন্দ্রের প্রার্থী ঊষারানী মন্ডলের হয়ে প্রচার চালান মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জনসভা কেবল ভোট চাওয়া নয়, বরং সংগঠনের ভিত মজবুত করার একটি বড় প্রচেষ্টা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বাংলা থেকে একজন মানুষকেও বিতাড়িত করতে দেবেন না এবং সংবিধান রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *