শিলিগুড়িতে রবিনসন কাণ্ডের ছায়া! স্ত্রীকে খুন করে লাশের সঙ্গেই সংসার!

শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানা এলাকার শিবমন্দিরে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর মৃতদেহের সঙ্গেই দিনের পর দিন কাটালেন স্বামী অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে নিজেই পুলিশকে ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করেন তিনি। অভিযুক্তকে মালদা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
লাশের সঙ্গেই সংসার এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ
গত বুধবার সকালে মাটিগাড়া থানায় একটি ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে শান্ত গলায় অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, তিনি তার স্ত্রীকে খুন করেছেন এবং মৃতদেহটি ফ্ল্যাটেই পড়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, সন্তানকে মালদায় রেখে আসতে যাচ্ছেন। এই খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ শিবমন্দির এলাকার ওই অ্যাপার্টমেন্টের চারতলায় হানা দেয়। ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই পুলিশ তীব্র পচা দুর্গন্ধ পায় এবং বিছানায় কম্বল জড়ানো অবস্থায় দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৪২) পচন ধরা দেহ উদ্ধার করে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মানসিক বিকৃতি
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, খুনের ঘটনাটি সম্ভবত দু-তিন দিন আগে ঘটেছে। মৃত দেবলীনা দেবী পেশায় একজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন এবং অভিযুক্ত অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। খুনের পর পালানোর চেষ্টা না করে লাশের সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো ধৃতের গভীর মানসিক বিকৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারি
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি কাজি শামসুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ১১ বছরের ছেলেকে মালদায় দিদিমার বাড়িতে রেখে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে পুলিশ মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে দ্রুত তৎপরতা দেখায় এবং মালদা থেকেই তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই নৃশংসতার পেছনে কোনো বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নাকি পারিবারিক বিবাদ কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
একঝলকে
- ঘটনাস্থল: শিবমন্দির এলাকা, মাটিগাড়া, শিলিগুড়ি।
- মৃতের পরিচয়: দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় (৪২), প্রাথমিক শিক্ষিকা।
- অভিযুক্ত: অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (বেসরকারি ব্যাংক কর্মী)।
- খুনের ধরণ: প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী শ্বাসরোধ করে হত্যা।
- বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত স্বামী পুলিশি হেফাজতে, তদন্ত চলছে।