ইজরায়েলি হানায় ধুলিসাৎ হিজবুল্লাহর দুর্গ, খতম খোদ প্রধান নাঈম কাসিমের ভাইপো!

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে এক জোরালো বিমান হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর অন্যতম শীর্ষ নেতা নাঈম কাসেমের ব্যক্তিগত সচিব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলি ইউসুফ হার্শিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই অভিযান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বৈরুতের তাল্লেত খয়াত এলাকায় এই সুনির্দিষ্ট হামলাটি চালানো হয়। এলাকাটি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দাহিয়েহ অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত। আইডিএফ জানিয়েছে, নিহত আলি ইউসুফ হার্শি হিজবুল্লাহর বর্তমান মহাসচিব নাঈম কাসেমের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং তার ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন।
আলি ইউসুফ হার্শির প্রভাব ও গুরুত্ব
হিজবুল্লাহর সাংগঠনিক কাঠামোতে আলি ইউসুফ হার্শি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিল। তার মৃত্যুর প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:
- পারিবারিক সম্পর্ক: হার্শি শুধুমাত্র একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই ছিলেন না, তিনি নাঈম কাসেমের আপন ভাইপো ছিলেন।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা: তিনি নাঈম কাসেমের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে তার দপ্তর পরিচালনা এবং শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকি করতেন।
- কৌশলগত ভূমিকা: হিজবুল্লাহর সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় তিনি সংগঠনের নীতিনির্ধারণী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ধারক ছিলেন।
ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা
আইডিএফ জানিয়েছে যে, তারা শুধুমাত্র বৈরুত নয় বরং দক্ষিণ লেবাননেও ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে লিটানি নদীর সংলগ্ন দুটি প্রধান সংযোগ পথ লক্ষ্য করে রাতে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ এই পথগুলো ব্যবহার করে দক্ষিণ লেবাননে হাজার হাজার রকেট, লঞ্চার এবং ভারী অস্ত্র সরবরাহ করত।
দক্ষিণ লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি:
- লিটানি নদী সংলগ্ন সরবরাহ পথগুলো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- হিজবুল্লাহর প্রায় ১০টি অস্ত্রাগার এবং রকেট লঞ্চার সাইট ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে।
- সংগঠনের বেশ কিছু আঞ্চলিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
এই হামলাটি হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দাহিয়েহর মতো নিরাপদ জোনের বাইরে এই অভিযান প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক লেবাননের গভীর পর্যন্ত সক্রিয়। নাঈম কাসেমের মতো শীর্ষ নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পারিবারিক সদস্যের মৃত্যু সংগঠনের মনোবল এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, রসদ সরবরাহের পথে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে ইসরায়েল।
একঝলকে
- বৈরুতের তাল্লেত খয়াত এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলি ইউসুফ হার্শি নিহত।
- নিহত হার্শি হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের সচিব ও ভাইপো ছিলেন।
- লিটানি নদীর সংযোগ পথে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার দাবি আইডিএফের।
- দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০টি অস্ত্রাগার ও সদর দপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে।