২৬-এর নির্বাচনে মোদীর হাতিয়ার বগটুই বীরভূমের মাটি থেকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

বীরভূমের সিউড়িতে নির্বাচনী প্রচারের শেষ জনসভা থেকে রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি বগটুই হত্যাকাণ্ড এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ লাল মাটির জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মানবতার কলঙ্ক বগটুই
২০২২ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী বগটুইয়ের ঘটনাকে ‘মানবতার নামে কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যেভাবে নিরীহ মহিলা ও শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং ‘মহাজঙ্গলরাজ’-এর চরম নিদর্শন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই ধরনের নারকীয় পরিস্থিতি দমনে বর্তমান সরকার ব্যর্থ এবং এর স্থায়ী অবসান হওয়া প্রয়োজন।
ক্ষুদ্রশিল্পের তকমা ও বোমার কারখানা
রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বাংলার প্রতিটি অলিতে-গলিতে আজ তাজা বোমা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকার এই বোমা তৈরির কারবারকে আজ ‘ক্ষুদ্রশিল্পে’ পরিণত করেছে। বীরভূমের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে বোমাবাজি ও হিংসার রাজনীতি বন্ধের ডাক দেন তিনি।
অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মোদীর গ্যারান্টি
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এদিন ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত শুরু করা হবে। দোষীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে জেলে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একে ‘মোদীর গ্যারান্টি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বগটুই গণহত্যার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২২ মার্চ বীরভূমের বগটুই গ্রামে উপপ্রধান ভাদু শেখের খুনের বদলা নিতে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। সেই রাতে গ্রামের বাড়িতে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় শিশু ও মহিলাসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনায় তৎকালীন শাসক দলের নেতা আনারুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২৬-এর নির্বাচনের মুখে সেই পুরনো ক্ষতে প্রলেপ না দিয়ে বরং তাকে বিচারের দাবি হিসেবে সামনে এনেছেন মোদী।
ডবল ইঞ্জিন সরকারের আহ্বান
আগামী ৪ মে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। কেন্দ্রের পিএম এবং রাজ্যের সিএম মিলে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠন করলে তবেই রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।