বিশ্বাসঘাতকতার চরম সীমা: স্বামীর লাশের ওপর বসে স্ত্রীর কান্নার অভিনয়, নেপথ্যে ছিল ১ লাখ টাকার খুনি ছক!

বিশ্বাসঘাতকতার চরম সীমা: স্বামীর লাশের ওপর বসে স্ত্রীর কান্নার অভিনয়, নেপথ্যে ছিল ১ লাখ টাকার খুনি ছক!

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় সংঘটিত হয়েছে এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। পারিবারিক সম্পর্কের বিশ্বস্ততাকে পুঁজি করে নিজের স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, প্রেমিকের প্ররোচনা এবং ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। এই ঘটনাটি কয়েক বছর আগে ইন্দোরের আলোচিত সোনম রঘুুবংশীর ‘রাজা হত্যাকাণ্ড’-এর স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে হানিমুনের রাতেই স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নেপথ্য কারণ

২০১৫ সালে শুরু হওয়া একটি প্রেমকাহিনী ২০২৬ সালে এসে এক রক্তাক্ত ট্র্যাজেডিতে রূপ নিল। মসলা ব্যবসায়ী দেবকৃষ্ণ পুরোহিত জানতেন না যে, যাকে তিনি ভালোবেসে ঘরে তুলেছেন, সেই প্রিয়াঙ্কাই তার জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়াবে। প্রিয়াঙ্কা তার প্রেমিক কমলেশের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার পথে স্বামীকে বড় বাধা হিসেবে দেখছিলেন। সেই বাধা অপসারণ করতেই তিনি এক লাখ টাকার বিনিময়ে সুরেন্দ্র ভাটি নামে এক সুপারি কিলার নিয়োগ করেন।

ব্যর্থ চেষ্টা ও প্রিয়াঙ্কার মরিয়া রূপ

তদন্তে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল খুনের প্রথম চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেদিন ভাড়াটে খুনি না আসায় দেবকৃষ্ণ প্রাণে বেঁচে যান। এতে প্রিয়াঙ্কা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রেমিকের মাধ্যমে খুনিকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান। সেই বার্তায় তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “যদি কাজ করতে না পারো, তবে আমার এক লাখ টাকা ফেরত দাও।” এই হুমকির পরই ঘাতকরা তড়িঘড়ি করে চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজায়।

অপরাধের ব্লু-প্রিন্ট ও পৈশাচিকতা

হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর জন্য প্রিয়াঙ্কা ঘরটিকে একটি ‘কিলিং জোনে’ পরিণত করেছিলেন:

  • চেতনানাশক ওষুধ: পরিবারের কেউ যাতে টের না পায়, সে জন্য প্রিয়াঙ্কা রাতের খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে দিয়েছিলেন।
  • সহজ প্রবেশপথ: খুনিরা যাতে অনায়াসে ঘরে ঢুকতে পারে, সেজন্য তিনি ঘরের দরজা ও তালার বিশেষ সেটিংস করে রেখেছিলেন।
  • নৃশংস হত্যা: মাঝরাতে খুনি সুরেন্দ্র ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত দেবকৃষ্ণের মাথায় ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

অভিনয় ও পুলিশের ডিজিটাল তদন্ত

ঘটনার পর পুলিশ ও প্রতিবেশীদের বিভ্রান্ত করতে প্রিয়াঙ্কা এক অভাবনীয় নাটক তৈরি করেন। ঘরে লুটের দৃশ্য সাজাতে আলমারি তছনছ করেন এবং নিজের হাত-পা বেঁধে রাখেন। ভোরে কান্নাকাটি শুরু করে স্বামীর লাশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এমন অভিনয় করেন যা দেখে উপস্থিত সবার বুক কেঁপে ওঠে। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের সাইবার সেল যখন প্রিয়াঙ্কা ও তার প্রেমিক কমলেশের ফোনের লোকেশন এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পরীক্ষা করে, তখন পুরো বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।

একঝলকে

  • মূল হোতা: নিহতের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তার প্রেমিক কমলেশ।
  • খুনের ধরন: এক লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
  • ধরা পড়ার কারণ: মোবাইল চ্যাট, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং সন্দেহজনক অবস্থান।
  • সাঙ্গপাঙ্গ: সুপারি কিলার সুরেন্দ্র ভাটি এবং সহযোগী হিসেবে প্রেমিক কমলেশ।
  • উদ্দেশ্য: স্বামীকে সরিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বসবাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *