এআই দাপটে ফের গণছাঁটাই এবার ডেল থেকে কাজ হারালেন ১১০০০ কর্মী

এআই দাপটে ফের গণছাঁটাই এবার ডেল থেকে কাজ হারালেন ১১০০০ কর্মী

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম মেধার (এআই) জয়জয়কার যেমন বাড়ছে, তেমনই তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। ওরাকলের পর এবার মার্কিন বহুজাতিক সংস্থা ডেল টেকনোলজিসে বড়সড় ছাঁটাইয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্বখ্যাত এই কম্পিউটার ও ল্যাপটপ নির্মাণকারী সংস্থা থেকে ১১,০০০ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে ডেল তাদের কর্মী সংখ্যা কমানোর যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, এটি তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই ও বর্তমান পরিস্থিতি

ডেল টেকনোলজিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালেও সংস্থায় মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ১.০৮ লাখ। ধারাবাহিক ছাঁটাইয়ের ফলে বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজারে। অর্থাৎ, প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী গত এক বছরে কাজ হারিয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ১১,০০০ কর্মীকে একবারে ছাঁটাই করা হয়নি, বরং বিভিন্ন ধাপে পুনর্গঠনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

কেন এই গণছাঁটাই

ডেল কর্তৃপক্ষ এই ছাঁটাইয়ের পেছনে মূলত দুটি কারণকে দায়ী করেছে:

  • এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে অনেক পুরনো পদ এখন অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে সংস্থা তাদের কর্মীবাহিনীকে নতুন করে সাজাচ্ছে।
  • অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন: ব্যবসায়িক খরচ কমাতে এবং পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে অভ্যন্তরীণ রদবদল করছে ডেল। যার জেরে অনেক কর্মীকে ছাঁটাইয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিপুল পরিমাণ খরচ সাশ্রয়

বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে ডেলের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাবদ সংস্থা খরচ করেছিল ৬৯.৩০ কোটি ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই খরচ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৯০ কোটি ডলারে। আগামী দিনে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেক দুনিয়ায় উদ্বেগের ছায়া

ডেল-এর এই পদক্ষেপের ঠিক আগেই আর এক মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকেল বড় ধরনের ছাঁটাই করেছে। গত ১ এপ্রিল ভোরে ইমেলের মাধ্যমে ৩০,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে ওরাকেল, যার মধ্যে ১২,০০০ ভারতীয় কর্মী ছিলেন। ওরাকেলও তাদের এআই পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াতে এবং খরচ কমাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। ডেল ও ওরাকলের মতো বড় সংস্থাগুলোর এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *