তামিম ইকবালের হাত ধরে বদলে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামো ও পারিশ্রমিক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি হিসেবে তামিম ইকবালের দায়িত্ব গ্রহণের পরেই বড় ধরনের পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে দেশের ক্রিকেটে। ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে নবগঠিত এই কমিটি। মঙ্গলবার কমিটির প্রথম বৈঠকেই ক্রিকেটারদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধিতে বড় পদক্ষেপ
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটি ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ আমলে নিয়ে বেতন কাঠামো ঢেলে সাজিয়েছে। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির বিষয়টি ছিল সবচেয়ে চমকপ্রদ। এর আগে নারী ক্রিকেটাররা ম্যাচ প্রতি যে যৎসামান্য ভাতা পেতেন, তা বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করে বোর্ড।
- নারী ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি: টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য এখন থেকে ১০ হাজার, ৫০ ওভারের ম্যাচের জন্য ১৫ হাজার এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাচের জন্য ২০ হাজার টাকা পাবেন তারা।
- মাসিক বেতন: প্রথম ৩৬ জন নারী ক্রিকেটারের মাসিক বেতন ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
- পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতন: ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা প্রতি মাসে ৬৫ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া ‘বি’ এবং ‘সি’ বিভাগের ক্রিকেটাররা পাবেন যথাক্রমে ৫০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা।
- ম্যাচ ফি: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিদ্ধান্তের নেপথ্যে তামিমের দর্শন
বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তামিম ইকবাল জানান, ক্রিকেটারদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হওয়া জরুরি। গত কয়েক বছরে বেতন বৃদ্ধির হার সন্তোষজনক ছিল না বলেই তিনি মনে করেন। তার মতে, ক্রিকেটাররাই দেশের ক্রিকেটের প্রাণ এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বোর্ডের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান কাঠামোকে তিনি চূড়ান্ত না বললেও একে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিসিবির বিশেষ উদ্যোগ
আর্থিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতিকে সমর্থন জানাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। দিন-রাতের ম্যাচগুলো এখন থেকে দিনের আলোয় সম্পন্ন হবে। ওয়ানডে ম্যাচগুলো বেলা ১১টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিদিন প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। একইভাবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো দুপুর ২টোয় শুরু হয়ে বিকেলে শেষ হবে।