অপেক্ষার অবসান! ১৫ এপ্রিল থেকেই শুরু অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশন; জেনে নিন খুঁটিনাটি

অপেক্ষার অবসান! ১৫ এপ্রিল থেকেই শুরু অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশন; জেনে নিন খুঁটিনাটি

২০২৬ সালের পবিত্র অমরনাথ যাত্রার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে এই বার্ষিক তীর্থযাত্রার অগ্রিম রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড (SASB) তীর্থযাত্রীদের জন্য ইতিমধ্যেই বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। ভক্তদের নিরাপত্তা এবং যাত্রার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখে এবার একাধিক নতুন নিয়ম ও প্রযুক্তিগত সংযোজন করা হয়েছে।

দেশের ৫৫৪টি ব্যাংক শাখায় মিলবে আবেদনপত্র

তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে দেশজুড়ে ৫৫৪টি নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখাকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর ব্যাংক এবং ইয়েস ব্যাংকের অনুমোদিত শাখাগুলো থেকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। রেজিস্ট্রেশন এবং যাত্রা অনুমতিপত্র (Yatra Permit) প্রদানের ক্ষেত্রে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ নীতি অনুসরণ করা হবে। তবে প্রতিটি রুট এবং নির্দিষ্ট ব্যাংকের জন্য দৈনিক কোটা নির্ধারিত থাকবে।

রেজিস্ট্রেশনের যোগ্যতা ও বয়সসীমা

অমরনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও বয়সগত মানদণ্ড বেঁধে দিয়েছে শ্রাইন বোর্ড।

  • বয়স: শুধুমাত্র ১৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তিরাই এই যাত্রার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • গর্ভাবস্থা: ৬ সপ্তাহের বেশি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই যাত্রা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমনকি তাঁদের কাছে স্বাস্থ্য শংসাপত্র থাকলেও অনুমতি মিলবে না।
  • স্বাস্থ্য শংসাপত্র: ৮ এপ্রিল, ২০২৬ বা তার পরে অনুমোদিত চিকিৎসক দ্বারা ইস্যু করা ‘কমপালসারি হেলথ সার্টিফিকেট’ (CHC) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

বায়োমেট্রিক ও ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা

এবারের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। আবেদনকারীদের আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক eKYC যাচাইকরণের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। যাচাইকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর শ্রাইন বোর্ডের পোর্টাল থেকে অনলাইন পারমিট তৈরি হবে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে ওয়েবক্যামের মাধ্যমে ছবি ও ম্যানুয়াল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি অনুমতিপত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে।

যাত্রাপথ ও রুট নির্বাচন

অনুমতিপত্রে তীর্থযাত্রীদের নির্বাচিত রুট— বালতাল অথবা পহলগাম— স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। আবেদন করার সময় এই বিষয়টি সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া অনুমতিপত্রে একটি নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ থাকবে, যেদিনে তীর্থযাত্রীরা ডোমেল (বালতাল) বা চন্দনওয়ারি (পহলগাম) প্রবেশ ফটক অতিক্রম করতে পারবেন। মনে রাখতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট দিনের যাত্রার জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ওই তারিখের সাত দিন আগেই বন্ধ হয়ে যাবে।

একঝলকে

  • রেজিস্ট্রেশন শুরু: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬।
  • ব্যাংক শাখা: সারা দেশের ৫৫৪টি অনুমোদিত শাখা।
  • আবেদন ফি: জনপ্রতি ১৫০ টাকা।
  • বয়সসীমা: ১৩ থেকে ৭০ বছর।
  • আবশ্যক নথি: আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর এবং বৈধ স্বাস্থ্য শংসাপত্র।
  • পদ্ধতি: আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক eKYC যাচাইকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *